আজ আবারও অবস্থান কর্মসূচি ছাত্রদলের, সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপি

আদিত্য রিমন ০৪:০১ , জুন ১৩ , ২০১৯

ছাত্রদলবয়সসীমা নির্ধারণ না করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে এখনও কোনও সমাধান করতে পারেনি বিএনপি। এ দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করে দলটির হাইকমান্ড। এদিকে দাবি মানার কোনও আশ্বাস না পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) আবারও সকাল ১১টা থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে সদ্য বিলুপ্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন বুধবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার (১১ জুন) ছাত্রদলের সার্চ কমিটির নেতাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। আমাদের দাবির বিষয়ে তাদের বুধবার জানানোর কথা ছিল, কিন্তু কিছু জানানো হয়নি। তাই বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) আবারও নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ অবস্থা করবো।’

বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ছাত্রদলের দাবি-দাওয়া নিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে বৈঠক করেন সংগঠনটির সাবেক নেতারা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির নেতারা বলছেন, ‘ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত বয়সসীমা না রাখার যে দাবি, তা মানা সম্ভব নয়। কারণ, তাদের আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নেওয়া হলে সেটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে অটল থাকতে পারে না এমন বার্তাও চলে যাবে দলের অন্য সংগঠনগুলোর কাছে। এর ফলে দেখা যাবে, এখন ছাত্রদল আন্দোলন করছে, পরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল বা অন্য কোনও সংগঠন তাদের দাবি নিয়ে মাঠে নামবে। তাই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই এমন বার্তাই দিয়েছেন তারেক রহমান।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির এক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানের কাছে ছাত্রদলের বয়সসীমা না রাখার দাবিসহ অন্য বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। তিনি আমাদের কথাগুলো শুনেছেন। কিন্তু তিনি তাদের (ছাত্রদলের) দাবি মেনে নেওয়ার কোনও আশ্বাস দেননি। তার কথাবার্তায় আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকার আভাস পাওয়া গেছে। তবে আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে আবারও বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘ছাত্রদলের যারা ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করছে তারা আমাদেরই ছোট ভাই। তাদের সঙ্গে দাবিগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। সেগুলো দলের হাইকমান্ডের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এখন সমাধান করতে তো একটু সময় লাগবে।’

বাদ পড়াদের আশান্বিত করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়ার পর যারা বাদ পড়বেন তাদের আমরা অন্য সংগঠনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করবো। সেক্ষেত্রে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল তো আছেই।’

গত ৩ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো। একই সঙ্গে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে। কাউন্সিলে প্রার্থী হতে হলে তাকে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনও বছরে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।’

এই প্রেস বিজ্ঞপ্তির পরে সদ্য ভেঙে দেওয়া ছাত্রদলের কমিটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা না করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে গত ১১ জুন বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা এবং ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা। পরে ওই দিন রাতে বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার জন্য কার্যালয়ের তালা খুলে দেন তারা। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার কোনও আশ্বাস না পাওয়ায় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

ছাত্রদল নেতারা বলছেন, ‘সদ্য ভেঙে দেওয়া ছাত্রদলের রাজীব আহসান (সভাপতি) ও আকরামুল হাসানের (সাধারণ সম্পাদক) কমিটি দুই বছরের স্থলে পাঁচ বছর ছিলেন। এ কারণে অনেক ছাত্রনেতার বয়স হয়ে গেছে। এখন যদি নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে সংগঠনের কমিটি হয়, তাহলে কমিটির সিনিয়ররা কোথায় যাবেন। তাই এই কমিটির সিনিয়রদের দিয়ে কমপক্ষে ছয় মাসের আহ্বায়ক কমিটি করে সম্মানজনকভাবে বিদায় দেওয়ার দাবি ছিল। এরপর নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি হলেও আমাদের কোনও আপত্তি ছিল না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের অক্টোবরে রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে। কিন্তু তাদের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় চলতি মাসের ৩ তারিখে।

ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বলেন, ‘ছাত্রদল করতে গিয়ে যারা গুম হয়েছে, জেল খেটেছে, চাকরির বয়স হারিয়েছে তাদের মনের সান্ত্বনারও তো একটা বিষয় আছে। আজকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা এখন কোথায় যাবো। তাই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা না রাখার দাবি জানিয়েছি।’

এদিকে বুধবার (১২ জুন) দুপুরে ছাত্রদলের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা উভয় সংকটে। ছাত্ররা দীর্ঘদিন জেল খাটলো। মামলা এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হলো। অথচ তাদের অবদানের বিনিময়ে ওরা কী পাবে? ওদের কী মূল্যায়ন হবে? দোষটা কার? দোষ কারও না। আসলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে কোনও রাজনৈতিক দল তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না।’

এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের কথাগুলো শুনে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে এটি সমাধান করা যাবে।’

আরও পড়ুন: ছাত্রদলের নতুন কমিটিতেও থাকতে চান ‘বয়স্করা’

 

 

/এমএএ/এমওএফ/

x