বাংলা ট্রিবিউনকে জিএম কাদের রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নেবে জাতীয় পার্টি

সালমান তারেক শাকিল ১১:১১ , জুলাই ১৯ , ২০১৯

জিএম কাদের, ছবি- সাজ্জাদ হোসেন

জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। যত কিছুই আমরা বলি না কেন; এই মুহূর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় যে তিনটি দল, এই তিনটি দলের খুব একটা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে বলা যায়, প্রশাসন একটি বড় ভূমিকা রাখছে। বিএনপিও খুব একটা রাজনীতিতে নেই, জনগণের চোখে পড়ছে না। আমি আশাবাদী, জাতীয় পার্টি যদি রাজনীতি করতে পারে, এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে জাতীয় পার্টি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাতে ফোনে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জিএম কাদের এসব কথা বলেছেন। আলাপে জাতীয় পার্টির এই নতুন দলনেতা জানিয়েছেন ভবিষ্যতে কীভাবে দলীয় রাজনীতি পরিচালনা করা হবে।

গত ৪ মে রাতে নিজের ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা জারি করেন সদ্য প্রয়াত সামরিক শাসক ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৪ জুলাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯ বছর বাংলাদেশ শাসন করা সাবেক এই সেনাপ্রধান। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তার ছোট ভাই জিএম কাদের।

চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর জিএম কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে জানান নিজের বড় ভাই ও জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদের স্মৃতি বিষয়ক কিছু উদ্যোগ গ্রহণের কথা। বলেন, এরশাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে তিনি গড়ে তুলবেন ব্যক্তিগত জাদঘর।

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে জিএম কাদেরের বিস্তারিত আলাপ তুলে ধরা হলো:

বাংলা ট্রিবিউন: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই। তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা ও দলের ভবিষ্যৎ কীভাবে দেখছেন?

জিএম কাদের: আমি দলের অবস্থা খুব ভালো দেখছি। কোনও অসুবিধা দেখছি না। আপনি যেভাবেই বলেন না কেন, দলের অবস্থা খুব ভালো।

বাংলা ট্রিবিউন: জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেকটা রংপুর বিভাগকেন্দ্রিক। আপনি নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। সারাদেশে সংগঠন বিস্তার করার কোনও চিন্তা আছে কিনা?

জিএম কাদের: জাতীয় পার্টির সবচেয়ে বড় শক্তি সমর্থকগোষ্ঠী। আমরা খেয়াল করেছি, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার পর তার যে চারটি জানাজা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি জানাজাতেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। আমাদের পার্টি অফিসে তার কফিন রেখেছিলাম, সেখানেও সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে মানুষ এরশাদের প্রতি অনুরাগ দেখিয়েছেন। আমাদের পার্টি অফিসে তার স্মরণে শোকবই খোলা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশে ও বিদেশে এরশাদ সাহেবের যে বিরাট গ্রহণযোগ্যতা, তা প্রমাণিত হয়েছে। তার প্রতি সবার যে আবেগ ও ভালোবাসা, তা আমরা দেখেছি। এরশাদ সাহেবের সমর্থকগোষ্ঠী আছে, তারাই জাতীয় পার্টির শক্তি। এটা আমাদের জন্য প্রাপ্তির। তার জানাজায় মানুষের যে সাড়া, অনেকে জানাজায় এসে এটাও বলেছেন—‘জীবিত এরশাদের চেয়ে মৃত এরশাদ অনেক বেশি শক্তিশালী হবেন। আমরা চেষ্টা করছি, যেহেতু সমর্থকগোষ্ঠী আছে, সেহেতু সম্ভাবনাও আছে। রংপুরে তার ক্ষেত্রে অনেক আবেগ কাজ করেছে, কিন্তু সারাদেশে এরশাদ সাহেবের গ্রহণযোগ্যতা আছে।

এইচএম এরশাদের সঙ্গে  জিএম কাদের

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু সারাদেশে তো সংগঠন অনুপস্থিত?

জিএম কাদের: আমাদের মনে হচ্ছে সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে গেছে। সারাদেশে যেসব সংগঠন আছে, তা ইভালুয়েশন করে আমরা সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি। আর এই সমর্থকগোষ্ঠী ও সংগঠন মিলিয়ে যদি ভালো রাজনীতি দিতে পারি, যেটা দেশের মানুষের প্রত্যাশা, আমরা  যদি এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে জাতীয় পার্টির সুন্দর ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে করি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। যত কিছুই আমরা বলি না কেন, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় যে তিনটি দল, এই তিনটি দলের খুব একটা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে বলা যায়, প্রশাসন একটি বড় ভূমিকা রাখছে। বিএনপিও খুব একটা রাজনীতিতে নেই, জনগণের চোখে পড়ছে না। আমি আশাবাদী, জাতীয় পার্টি যদি রাজনীতি করতে পারে, এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, সম্ভাবনা আছে জনগণ আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে পারেন। তাহলে জাতীয় পার্টি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। এখন সংগঠন গোছানোর কাজ করবো। আমরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, প্রোগ্রাম দেবো। এরইমধ্যে কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বন্যা ইস্যুতে আমরা যাবো মানুষের কাছে, ডেঙ্গু নিয়েও আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো। সংসদেও আমরা কথা বলছি। সরকারের যেসব বিভাগগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে কিন্তু আমরা কথা বলছি। গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি সঠিক পথে থাকার জন্য।

বাংলা ট্রিবিউন: সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আপনি কী মনে করেন কাউন্সিলের প্রয়োজনীয়তা আছে? নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার অবস্থান কোথায়?

জিএম কাদের: সংগঠন করার মানেই হলো যে সব জায়গায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটিগুলো করা। প্রতিটি জেলা, উপজেলা, নগর, মহানগরসহ তৃণমূলে কমিটির পর শেষ পর্যন্ত জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক হবে। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আমরা পরবর্তী কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেবো। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ও পরে আমরা কাউন্সিল করবো। এর আগে পর্যায়ক্রমে সর্বস্তরের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। শক্তিশালী করা মানে লাইনআপ করা। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো নতুন করে করা, যেগুলোর মেয়াদ আছে, সেগুলোতে কোনও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করা। এরপর সারাদেশে কমিটিগুলো হয়ে গেলে, সারাদেশের ডেলিগেশনের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে কাউন্সিল করবো। এটা একটা সাধারণ প্রক্রিয়া, গতিশীল করার জন্য আমরা তা করবো। এরইমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এই কিছুদিন আগেই আমরা বিভাগীয় পর্যায় থেকে নেতাদের ডেকে এনে তাদের মতামত নিয়েছি, তাদের নির্দেশনা দিয়েছি, কোথায় কী অবস্থা তা জানার চেষ্টা করেছি। এখন থেকে আমরা সব অঙ্গসংগঠনের জন্য সাংগঠনিক টিম তৈরি করবো। তারা অন দ্য স্পটে যাবে এবং আমাদের সুপারিশ দেবে, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এরপর কাজ করবো।

বাংলা ট্রিবিউন: এই কাজটি করতে গিয়ে আপনার দলের জ্যেষ্ঠ কোনও নেতা বা নেতাদের বাধায় পড়ার কোনও আশঙ্কা করেন কিনা?

জিএম কাদের: জ্যেষ্ঠ বলতে দুয়েকজনের নাম বলুন তো? তারা কারা?

বাংলা ট্রিবিউন: জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে আমরা ইঙ্গিত করছি, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকতেই যারা দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে তার বিরোধিতা করেছেন।

জিএম কাদের: না, আমি এমন মনে করি না। কারণ, আমরা তো হঠাৎ করেই করছি না, আজকেই তো চেয়ার করে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরেই তো। যখন স্যার (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) অসুস্থ ছিলেন, তারপর থেকে বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে বা পার্টিগতভাবে যতগুলো প্রোগ্রাম হয়েছে, সেগুলোতেও আমি ছিলাম। বিভাগীয় নেতাদের বৈঠক হয়েছে চারদিন ধরে, প্রেসিডিয়ামের বৈঠক হয়েছে। স্যার ইন্তেকালের পর বিশাল আয়োজন, তার কুলখানি, তাকে নিয়ে যেসব আয়োজন, প্রত্যেকটি কিন্তু খুবই সফলভাবে করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে কোনও বাধাও কেউ দেয়নি, কোথাও কোনও সমস্যাও তৈরি হয়নি। কাজেই সামনের দিকে এসব নিয়ে সমস্যা হবে, এমনটি আমি মনে করি না।

বাংলা ট্রিবিউন: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবদ্দশায় দলের গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা অনুযায়ী অনেক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যেগুলোতে অনেক সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। এই ধারাটি সংগঠনের জন্য কতটা জরুরি? এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?

জিএম কাদের: বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, এমনকি আমেরিকাতেও, সেখানে রাষ্ট্রপতির কতগুলো ভেটো পাওয়ার থাকে। আমাদের দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিটি পার্টির, আমি আমাদের দলের গঠনতন্ত্র জানি, এ ধরনের একটি স্পেশাল ক্ষমতা তাদের নেতাকে দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি দলেই এটা আছে। কিছু নেতা, যাদের অল্পতেই হয়ে যায়, যারা সৎ, তাদের জন্য এটা কোনও বিষয় না। না হলে দলের যেকোনও কর্মকাণ্ড- একটা কমিটি হলো, কোনও কাজ থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তখন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কোর্টে গিয়ে চ্যালেঞ্জ দিতে পারবে। যদি এ ধরনের কোনও বিধান না থাকে, তাহলে প্রতিটি কর্মকাণ্ডই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কমিটিগুলো দেখা গেলো স্টে অর্ডার হয়ে রয়েছে। সামান্য কোনও ব্যাপার নিয়ে কোর্টে গেলে আমাদের তো সারা দিন কোর্টে থাকতে হবে। যেকোনও বড় বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, সেজন্য পার্টির প্রধানকে কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়। নিয়ম হলো—এই ক্ষমতা ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে অতিরিক্ত ব্যবহার করা না হয় অথবা ব্যবহারের একটা জবাবদিহি থাকতে হবে, যাতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকে। এটা আমারও চেষ্টা থাকবে। কিন্তু এটা ছাড়া দল পরিচালনা করা অনেক কঠিন। এটা অনেকে বুঝতে পারেন না। গণতন্ত্র মানে এই নয় যে, এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে সিস্টেম অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের কিছু ক্ষমতা না দিলে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অনুযায়ী, আমি মনে করি দলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা সম্ভব হবে না। এটা বাদ দিলে দল ঠিক হয়ে যাবে, এটা তারাই বলতে পারবেন—যারা প্র্যাক্টিক্যালি দল পরিচালনা করেন না।

বাংলা ট্রিবিউন: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতার পদ খালি হয়েছে। এ নিয়ে আপনার চিন্তা কী?

জিএম কাদের: এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি বা নেওয়ার অবস্থা আসেনি। যখন আমরা আলাপ আলোচনা করবো, তখন এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সবার মতামত গ্রহণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এটাই আমি চাই।

একই মঞ্চে এইচএম এরশাদ, রওশন এরশাদ ও  জিএম কাদের, ছবি- সাজ্জাদ হোসেনবাংলা ট্রিবিউন: বিরোধী দলের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের কোনও ভূমিকা থাকবে?

জিএম কাদের: না না, সরকারের পক্ষ থেকে কোনও পরামর্শ দেওয়া হয়নি। আমি যেটা মনে করি, যেহেতু বিরোধী দল এখানে কয়েকটা আছে, এখানে আমরা যেহেতু সর্ববৃহৎ বিরোধী দল, সেখানে স্পিকার তার রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী যাকে বলবেন, তাকে দেওয়া হবে। আমরা গতবার সাজেশন্স দিয়েছিলাম, তিনি রেখেছিলেন। আমরা এবারও সাজেশন্স দেবো। আশা করি তিনি মেনে নেবেন। তারপর স্পিকারের একটা জুরিসডিকশন আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আসন্ন ঢাকা, চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে কিছু ভেবেছেন?

জিএম কাদের: আমি মনে করি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফলাফল ভালো না হলেও দলকে রাজনৈতিক প্রবাহের মধ্যে রাখার জন্য আমাদের নির্বাচনে থাকা উচিত। তবে এসব বিষয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরিশালে দলীয় সমাবেশে মন্তব্য করেছেন, ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী ‘স্বৈরাচার এরশাদ’কে সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে।

জিএম কাদের: তার (মির্জা ফখরুল) কথা বলছি না, যারাই একথা বলেন, আমার কাছে মনে হয়— এটা একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। কেননা, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন মারা যান, তখন তিনি সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এবারই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, এমনটা নয়। একানব্বইয়ের পর শুধু একটা সংসদ বাদে সবগুলোতে প্রতিযোগিতা করেছেন। তিনি জেলে থেকে পাঁচটি আসনে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর চারবার জানাজা হলো। সেখানে লোকে লোকারণ্য ছিল। সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি অন্য কোনও নেতার সময় হয়েছে কিনা জানি না। তারপরও তাকে স্বৈরাচার বলা বা জননন্দিত না বলে অন্যকিছু বলা আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না। আমার কাছে, সমাজের প্রতি একটা মানুষের অবদান এবং সমাজ তাকে কী চোখে দেখছে, কীভাবে তাকে গ্রহণ করেছে, সেটার একটা মাপকাঠি হলো, একজন মুসলমান হলে তার নামাজে জানাজা। সেই মাপকাঠিতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে জননন্দিত এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে মানুষ মূল্যায়ন করেছেন। অন্য কেউ যা কিছু বলছেন, তারা হয়তো ব্যক্তিগত কারণে বলতে পারেন বা বলার জন্য বলেছেন। খুব একটা বিবেচনা করে বলেছেন বলে আমার মনে হয় না।

বাংলা ট্রিবিউন: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাষ্ট্রীয় দাফনের ব্যাপারে কেবিনেট সচিবের কাছে দলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল?

জিএম কাদের: আমরা পত্র দিয়েছিলাম। সচিব কী বলেছিলেন সেটা বড় কথা না। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ করা হয়েছে, এটাই বড় কথা। কে কী বলেছেন— এটা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।

বাংলা ট্রিবিউন: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে স্মৃতিমূলক কোনও উদ্যোগের পরিকল্পনা আছে আপনার?

জিএম কাদের: স্মৃতি রক্ষার্থে তার পৈতৃক বাড়িতে ট্রাস্ট করা হয়েছে। তার কবর কিন্তু পল্লীনিবাসে দেওয়া হয়নি। সেখানে জেনারেল অ্যান্ড ডায়বেটিক হাসপাতাল আছে, তার পাশে কবর দেওয়া হয়েছে। সেই স্থানে আমরা একটা কমপ্লেক্স তৈরি করার চেষ্টা করবো। তার ব্যবহার করা জিনিস আমরা পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছি। ব্যক্তিগত জাদুঘরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেখানে এই জিনিসগুলো রাখা হবে। ওখানে তার বইপত্র, ব্যবহার করা জিনিসপত্র, উনার ছবি, তার সম্পর্কিত সব জিনিস সেখানে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করবো। এসব কাজের জন্য এরইমধ্যে ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। তিনি সর্বশেষ একটা গ্রন্থ শেষ পর্যায়ে করে রেখেছিলেন। সেটার পাণ্ডুলিপি আমরা রেডি করছি। কিছুদিনের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন:

কাকে বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত করছে জাপা?

এরশাদ টাই বাঁধতে শিখিয়েছেন, রাজনৈতিক শিক্ষাও দিয়েছেন: জিএম কাদের

ঢাকায় এরশাদের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত

রাজনীতিতে এরশাদের ‘ডিগবাজি’

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করেও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানতে পারেননি এরশাদ

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি এরশাদের

এরশাদকে ছেড়ে গেছেন ঘনিষ্ঠরা

সামরিক শাসক থেকে রাজনীতিক

এরশাদ আর নেই



 

 

/আরজে/এএইচ/এপিএইচ/এমওএফ/

x