শরিকদের বিষয়ে ‘নির্বিকার’ অবস্থানে বিএনপি

আদিত্য রিমন ১০:১৩ , জুলাই ২৪ , ২০১৯

বিএনপি

জোট নিয়ে মাথাব্যথা নেই বিএনপির। ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর বিষয়ে দলটির অবস্থান উন্মুক্ত। কেউ জোটে থাকতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে, ছেড়ে যেতে চাইলেও বাধা দেওয়া হবে না। আপাতত জোটবদ্ধ হয়ে কোনও কর্মসূচিতে যাবে না তারা। দলগত কর্মসূচি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নজর এখন সংগঠনে। এ কারণে বিভাগীয় শহরগুলোয় বিএনপির চলমান কর্মসূচিতে জোটসঙ্গীদের যুক্ত করা হচ্ছে না। 

বিএনপি নেতারা বলছেন, জোটের প্রশ্ন আসে নির্বাচন, বড় কোনও দাবি আদায় বা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু নিকট-ভবিষ্যতে আন্দোলন বা নির্বাচনের কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ফলে বিএনপি নজর দিচ্ছে দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করায়। সংগঠন শক্তিশালী হলে প্রতি ক্ষেত্রেই সফলতা আসবে। এক্ষেত্রে সমমনাদের নিয়ে জোট গঠন করার প্রশ্ন এলে সেটা সম্ভব হবে। ফলে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত হচ্ছে, কোনও দল বা ব্যক্তি ‘অযৌক্তিক’ কোনও দাবি তুলে জোট থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে না। দ্বিতীয়ত, শরিকদের প্রতি পরামর্শ হচ্ছে নিজের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি করে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার। এক্ষেত্রে কোনও সহযোগিতা লাগলে করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এটাকে ঠিক ‘একলা চলোনীতি’ বলা যাবে না। আমাদের সিদ্ধান্ত এই প্রোগ্রামগুলো (সমাবেশ) বিএনপির আয়োজনে করা। এ কারণে জোটবন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে শরিকদের সংশ্লিষ্ট করে প্রোগ্রাম করা হবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের শরিকদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত আছে, যার যার সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো। সাংগঠনিক শক্তি জোরদার হলেই জোট বা ফ্রন্ট আরও শক্তিশালী হবে। এখন আমরা নিজস্ব কর্মসূচি ও সংগঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। শরিকরা চাইলে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সব দলকে নিজস্ব কর্মসূচি পালন করার স্বাধীনতা দেওয়া আছে। এখন বিএনপি নিজের দলীয় কর্মসূচি পালন করছে।’ 

কেউ জোটে থাকতে না চাইলে জোর করে আটকে রাখা যায় না মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ আদর্শ ও বিশ্বাস থেকেই জোটে এসেছে। আবার নিজ নিজ উদ্যোগে জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। বিএনপি তো কাউকে বের করে দেয়নি।’

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিএনপির সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে ২০ দলীয় জোট ছাড়েন বিজেপির আন্দালিভ রহমান। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে জোট ছাড়েন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী। তাদের ফেরানোর কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি বিএনপির। এমনকি কাদের সিদ্দিকীর জোট ছাড়ায় কোনও প্রতিক্রিয়াও জানায়নি তারা।   

বিএনপি নেতারা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০ দলীয় জোট আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনে ভরাডুবির পরে জোটের শরিকরা বিভিন্ন ‘অযৌক্তিক’ প্রশ্ন তুলছে। শরিকদেরও নিজেদের শক্তির ওপর নির্ভর করে মাঠে নামতে হবে। প্রেস ক্লাব বা কোনও এসি হলরুমে আলোচনাসভা করে তো মানুষের কাছে যাওয়া যাবে না। খুন, গুম, ধর্ষণ, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, বন্যার মতো ঘটনাগুলোয় সাধারণ মানুষ সরাসরি ভুক্তভোগী। এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাদের মানুষের কাছে যেতে হবে। দরকারে বিএনপি সহযোগিতা করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে। দুই জোট থেকে যতগুলো আসন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার ৯০ শতাংশই দেওয়া হয়। এখন তারা যদি মনে করে, বিএনপি একাই আন্দোলন করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেবে, তারা শুধু জোটসঙ্গী হিসেবে সুবিধা ভোগ করবে তাহলে তো চলবে না। তাদেরও রাস্তায় নামতে হবে। বিএনপি করবে আর তারা খাবে, এটা তো হবে না।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘দেশে এখন বন্যা। অনেক মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত। শরিকরা নিজেদের উদ্যোগে ত্রাণ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে টাকা-পয়সার কোনও সহযোগিতা লাগলে আমরা সাধ্যমতো দেবো। এছাড়া ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মিটিং-মিছিল করতে পারে বিভিন্ন জেলায়। শুধু ঢাকায় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন বা কোনও হলরুমে আলোচনা সভা করে আর বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপালে তো হবে না।’ 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘বিএনপি তার নিজস্ব কর্মসূচি ও সংগঠন নিয়ে ব্যস্ত আছে। এ কারণে জোটগত কোনও কর্মসূচি দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে এখন জোট শরিকদের করণীয় কী, সেটা নিশ্চয় তারা ভালো বোঝেন। আমরা তো তাদের কর্মসূচির বিষয়ে বলে দিতে পারি না। আমাদের কোনও সহযোগিতা লাগলে সেটা দিতে পারি।’ তবে শরিকরা তাদের সঙ্গে আছেন, আগামীতেও থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’ 

/এইচআই/এমএমজে/

x