২১ আগস্টের হামলা দেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা: বিএনপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:০৮ , আগস্ট ২৪ , ২০১৯

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

২১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের ওপর গ্রেনেড হামলাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপি। শনিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা। কিন্তু সরকারপ্রধান এনিয়ে যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ 

এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা ঠিক না বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মুখপাত্র।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সরকারে থাকা অবস্থায় এফবিআইকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। তদন্ত করার জন্য তাদের সহযোগিতা করেছিলাম। মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার আমরাই করেছি।’

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত শিডিউল পরিবর্তিত হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিষ্ঠাবাষিকীর র‌্যালি হবে ২ সেপ্টেম্বর ও আলোচনা সভা একদিন এগিয়ে এনে ১ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হবে।

মির্জা ফখরুল আরও জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টর আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ব্রিফ করেন। দলের স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠক এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে, প্রতি সপ্তাহে এই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। এখন থেকে স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলো ১৫ দিন পরপর বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।

স্থায়ী কমিটির দুই ঘণ্টার বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

‘রোহিঙ্গার বিষয়ে সরকার মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে’  

 প্রেস ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সরকার সম্পূর্ণভাবেই ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা (মিয়ানমার) যে ফর্মূলা দিয়েছে, সেই ফর্মূলার কাছে নতি স্বীকার করেছে। সর্বশেষ যে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরাণার্থী প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা হয়েছিলো, তার সমাধান হয়নি অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া-এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি।’

আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়েও সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যেটা লক্ষ্য করেছি, রোহিঙ্গা বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আগে বলেছিলাম, এই সমস্যার সমাধানে প্রথম কাজ হচ্ছে- অলপার্টি ডায়ালগ করা। একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে, আমাদের কী করতে হবে তা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসতো।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘প্রথমে দরকার ছিলো সরকার প্রধানের সেই সব রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্যা স্টেটের সঙ্গে দেখা করা, যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। সেটা সরকার করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও সফর বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা সরকারের কোনও প্রতিনিধিদল করেন নাই। মিয়ানমার যে ফর্মূলাগুলো দিচ্ছে, সেগুলো তারা নিচ্ছেন। এখানে বুঝা যায়, তারা বাংলাদেশের ইন্টারেস্টটা সেভাবে দেখতে ব্যর্থ হচ্ছেন।’

মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে ২০১২ থেকে ২০১৭ এর আগস্ট পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ২০১৭ এর ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে এরপর সাত লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৮ আগস্ট (বুধবার) ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলটির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এফএসি) এই প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে। 

 

/এসটিএস/এএইচ/

x