রুমিনের প্লটের আবেদন নিয়ে আপত্তি নেই বিএনপির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৯:৪৬ , আগস্ট ২৫ , ২০১৯

রুমিন ফারহানা সরকারের কাছে প্লট চেয়ে সংসদ সদস্য ও বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার আবেদনের বিষয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই। শীর্ষ পর্যায় থেকে তাকে নির্ভার থাকতে বলা হয়েছে। তবে নেতাকর্মী ও দলের একটি অংশে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

রবিবার (২৫ আগস্ট) বিএনপির একাধিক উইংয়ে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি প্লটের সুবিধা পাবেন, এটা স্বাভাবিক।
দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন জানান, প্লটের আবেদন প্রকাশ্যে আসার পেছনে সরকারের সরাসরি আগ্রহ আছে। এক্ষেত্রে রুমিনের আরও সতর্ক থাকা দরকার ছিল। এ ব্যাপারে আগে দলের কোনও পর্যায়ে তিনি কথা বলেননি। তবে তার এই আবেদনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রুমিনের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি রবিবার সকালে প্রকাশ্যে আসার পর রুমিন নিজেই দলের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন। সে সময় তাকে এ বিষয়টি আর না ভাবতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ৩ জুন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রুমিন। সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিনেই সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও একাদশ সংসদকে অবৈধ অভিহিত করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।

রুমিন ফারহানার প্লটের আবেদনের বিষয়ে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৩ আগস্ট প্লট চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন রুমিন। এই আবেদন তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকেই করেছেন। এক্ষেত্রে যে সমালোচনা বা আলোচনা চলছে, তার দায়িত্ব একমাত্র রুমিনের। দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতার সঙ্গেই রুমিন ফারহানার কথা হয়েছে। তারা তাকে এ বিষয়টি ভুলে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করা সংসদ সদস্যদের মধ্যে রুমিন ছাড়া বাকি সবাই শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা ব্যবহার করছেন বলেও জানিয়েছেন দলটিরই একজন জনপ্রতিনিধি।

বিএনপির একাধিক পক্ষ মনে করছেন, সংসদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুমিন ফারহানা সরকারের নানা বিষয়ে সমালোচনা করেছেন এবং সেসব বিষয় মানুষের সামনে প্রচার হয়েছে। কোনও কোনও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। হঠাৎ করে রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় আসায় রুমিনের বিরুদ্ধে দলেই একটি গ্রুপ বিরোধিতা শুরু করেছে। এছাড়া দলের আবেগী অংশ, যারা তার বক্তব্য শুনে উৎসাহিত হয়েছেন, তাদের কাছেও রুমিনের প্লটের আবেদনের খবরটি হতাশাজনক।

দলের দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেন, ‘রুমিনকে এখন থেকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই তার সম্পর্কে আগ্রহ দেখানো হচ্ছে। সংসদে তার বক্তব্য মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে।’

এ প্রসঙ্গে রবিবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি আবেদন করেছি। আমরা প্রশ্ন হলো, আমার চিঠিটা কি অবৈধ? কোন আইনে অবৈধ? এটা কি অনৈতিক? এটা তো রাষ্ট্রীয় চিঠি। আমি তো সরকারের কাছ থেকে কিছুই চাইনি। আমার বেতনটা যেমন রাষ্ট্রীয়, আমার এই অ্যাপ্লিকেশনও রাষ্ট্রীয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার যে অবৈধ, এটা এখন বলছি, আগেও বলেছি- এটা সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার। এটা জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচিত সরকার। এই সরকার সর্ব অর্থে অবৈধ সরকার। আমি সরকারের আছে কোনও কিছু চাইনি। আমি রাষ্ট্রীয় সুযোগ চেয়েছি।’

আবেদনপত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে রুমিন বলেন, ‘এটা তারা (সরকার) করেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে দেওয়া অবৈধ ও অনৈতিক সুবিধার ঘটনা চাপা দেওয়ার জন্য, জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য।’

এদিকে আবেদন প্রকাশ্যে আসা এবং সেই পত্রে ফোন নাম্বার থাকায় ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রুমিন ফারহানা। এ বিষয়ে তিনি আইনি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চিন্তা করছেন। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয় কেন বাকি এমপিদের আবেদনপত্র প্রকাশ্যে আনবে না, সে ব্যাপারেও আইনি পথ খোঁজা হচ্ছে।

তবে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, রুমিন ফারহানা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। প্লট আবেদনের বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে বিএনপিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমপি হিসেবে গাড়ি পাবো, এটা তো শেখ হাসিনা দিচ্ছেন না। প্রিভিলেজ হিসেবে প্লট পাবো, এটার জন্য আবেদন করবো, এটাই তো স্বাভাবিক। আমি তো চারবারের এমপি, আমি তো এখনও প্লট পাইনি। এটা নিয়ে কোর্টের রায় হয়েছে, রাজউক এটা হস্তান্তর করবে। রুমিন ফারহানা প্লটের আবেদন করেছেন, এটা তো শেখ হাসিনা দয়া করে দেবেন না, এটা তো এমপি হিসেবে তার প্রাপ্য। সরকার চাইলে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যার গাড়ি তিনি টাকা দেবেন, সরকার অনুমোদন করবেন। এটার অনুমোদন দিতেই হবে।’

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘রুমিন যেহেতু সংসদে কথা বলেন, তাই এটা নিয়ে কথা হচ্ছে। এর আগে আওয়ামী লীগের আগের সময়ে যারা সংরক্ষিত আসনে এমপি ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই তো প্লট নিয়েছেন। ফলে এটা নিয়ে আলোচনার কোনও যৌক্তিকতা নেই।’

/এসটিএস/এএইচ/এমওএফ/

x