ডাকসুতে রাব্বানী থাকবেন কিনা, এটা তার নৈতিকতার ব্যাপার: খালিদ মাহমুদ

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক ০২:৩০ , সেপ্টেম্বর ১৬ , ২০১৯

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (ফাইল ছবি)

চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া গোলাম রাব্বানী ডাকসুর জিএস পদে থাকবেন কিনা, এটা তার নৈতিকতার ব্যাপার বলে মত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তর টিভির ‘একাত্তর জার্নাল’ অনুষ্ঠানে ভিডিও কলে সংযুক্ত হয়ে এ মত দেন তিনি। তার কাছে প্রশ্ন ছিল—ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ডাকসুর জিএস পদ থেকে রাব্বানীকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা?

এ প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ ছাড়া, ডাকসুতে তিনি (রাব্বানী) থাকবেন কিনা, সেটা তার নৈতিকতার বিষয়; তার সিদ্ধান্তের বিষয়। আর ভিসি যেহেতু বলেছেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থা নেবেন, আমরা সেপর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি।’

গত ৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন ঠিক কী হয়েছিল—অনুষ্ঠান সঞ্চালকের এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা অভিযোগ এসেছে এবং তিনি এ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে আছি। বিষয়টা কার্যনির্বাহী কমিটির গত মিটিংয়ে ওঠানো হলে সিদ্ধান্ত হয়, তাদের (শোভন-রাব্বানী) আর এ পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ওই অভিযোগ (চাঁদাবাজি) করেছিলেন একজন শিক্ষক এবং সেটাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে; যিনি এদেশের অভিভাবক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই তাদের (শোভন-রাব্বানী) তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করতে বলা হয় এবং তারা তা করে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাদের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা, তারা তা করেছেন। পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।’

রাব্বানীর অভিযোগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগকে এককোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এ ব্যাপারটাকে আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে—এই প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গোলাম রাব্বানীর অভিযোগ সত্য নয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে উপাচার্যের করা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলেন বলেই প্রধানমন্ত্রী এমন একটা পদক্ষেপ নিয়েছেন।’

নানা অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা নেতাকর্মীদের কারণে ছাত্রলীগের ব্যাপারে তৈরি হওয়া আস্থা সংকট দূর করার জন্য আপনাদের পদক্ষেপ কী বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে আপনাদের পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত আছে কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘ছাত্রলীগ নিয়ে আমাদের আস্থা সংকট নেই। কেউ (নেতাকর্মী) দুর্নীতি করলে তার দায় সংগঠনের নয়। আপনারা দেখেছেন, ছাত্রলীগ সেই (শোভন-রাব্বানীর চাঁদাবাজি) দায় নেয়নি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ লিপ্ত হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ছাত্রলীগ নয়, আওয়ামী লীগেও এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা নতুন নয়। গত নির্বাচনে আদালতে অভিযোগ থাকায় অনেকেই নির্বাচন করতে পারেননি। অনেক এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, যারা এখন আদালতের বারান্দায় ঘোরাফেরা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে এদেশের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি ডালপালা মেলতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী সেই দুর্নীতি নির্মূলের চ্যালঞ্জ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ তো ফৌজদারি অপরাধও। এ ব্যাপারে আইনি কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যারা অভিযোগ করেছেন, তারা চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। তবে আমাদের কাছে যে অভিযোগ এসেছে, সেটার ব্যাপারে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন কেউ যদি আইনি পদক্ষেপ নেয়, নিতে পারে।’

 

/এমএ/

x