যুবলীগের কমিটি ভাঙা নিয়ে নানা গুঞ্জন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:১৭ , সেপ্টেম্বর ১৯ , ২০১৯

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগযুবলীগ নেতাদের পরিচালিত ক্যাসিনোতে অভিযানের পর এবার সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ভাঙার আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন মাধ্যমে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ বলছেন, কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, আবার কেউ বলছেন দুই একজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে কমিটি ভাঙার মতো কিছু ঘটেনি। আজ বৃহস্পতিবার এ ধরনের নানা আলোচনা চাউর ছিল যুবলীগসহ আওয়ামী ঘরানার রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও দলীয় পর্যায় থেকে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মাঝারি পর্যায়ের এক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেকের মধ্যেই কমিটি ভাঙা নিয়ে আতঙ্ক কাজ করছে। কেউ কেউ চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদকের কাছে এ নিয়ে জানতেও চেয়েছেন।

এদিকে যুবলীগের যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কেউ কেউ গাঢাকা দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়। মূল অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট কাকরাইলে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গেলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি নেতাকর্মী সেখানে ভিড় করেছেন। সূত্রমতে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত মমিনুল হক সাঈদ প্রকাশ্যে আসছেন না। আবার বনানীর ক্যাসিনোর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযুক্ত উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনও কাউকে দেখা দিচ্ছেন না বলে সূত্র দাবি করে।

গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছেপ্রসঙ্গত, গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, যুবলীগের কয়েকজন নেতা ঢাকায় অর্ধশতাধিক ক্যাসিনো চালাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। যুবলীগের কয়েকজন নেতার বডিগার্ড নিয়ে চলারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এরপর গত মঙ্গলবার কয়েকটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি অন্যতম অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) যুবলীগ নেতাদের পরিচালিত ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাবএরপরই ছড়িয়ে পড়ে কমিটি ভাঙার আলোচনা। এ প্রতিবেদকের কাছে যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা ফোন করে জানতে চান যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে কিনা। এ নিয়ে জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি রক্ষায় যা দরকার তা-ই করবেন। তিনি বলেন, মহানগরের দুই অংশের কমিটির ভাঙা হচ্ছে কিনা এ নিয়ে সারাদিন তার কাছে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। কিন্তু তাদের কাছে এখনও এ বিষয়ে কোনও নির্দেশ বা বার্তা নেই। প্রধানমন্ত্রী চাইলে তারা অবশ্যই কমিটি ভেঙে দেবেন।

এদিকে খালেদকে গ্রেফতারের পর শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অনেকেই বলছেন, মূল অভিযুক্ত সম্রাটকে বাঁচাতে শুধু খালেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেননা, সম্রাট এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। নিয়মিত তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে যাচ্ছেন, রাত দুইটা-আড়াইটা পর্যন্ত নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। অথচ তার বিরুদ্ধেই পুরো ঢাকা শহরে জুয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে।

কমিটি ভাঙার আলোচনার পাশাপাশি আজ সন্ধ্যায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে গণভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য তার ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। গণভবন সূত্রগুলোও সেখানে তার যাওয়ার বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেনি।

/এমএইচবি/টিএন/এমওএফ/

x