ছাত্রদলে ভর দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা বিএনপির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:৫৪ , সেপ্টেম্বর ২০ , ২০১৯

ছাত্রদলদলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারামুক্ত করার আন্দোলন কিংবা রাজপথের অন্য কোনও কর্মসূচি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি প্রায় ছিল না বিএনপিতে। এছাড়া, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায়ও  আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হয়ে পড়ে এমন এক সহায়ক শক্তির, যার ওপর ভর দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো পারে দলটি। আর সেই সুযোগটি এসে গেছে প্রায় ২৮ বছর পর সরাসরি ভোটে দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইকবাল হোসেন শ্যামল নির্বাচিত হওয়ার পর। বিএনপির নেতাদের প্রত্যাশা—কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের অধিকার ফেরাতে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব অবদান রাখবে।

ছাত্রদলের নেতার বলছেন, ২৮ বছর পর নির্বাচিত নেতৃত্ব পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব জেগেছে।  শিগগিরেই সারাদেশের কমিটিগুলো গোছানোর কাজটি হয়তো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইউনিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে  ৫ বছর থেকে ১০ বছর আগে। সেক্ষেত্রে ছাত্রদলের নতুন কমিটি আলোচনার মাধ্যমে ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর কাউন্সিল হওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে জানা যায়, ছাত্রদলের কাউন্সিলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে বিএনপির নয় জন নেতাকে।

ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চতুর্থ সিনিয়র সহকারী জজ ফারজানা আক্তার এই আদেশ দেওয়ার পর দিন (১৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত নেবে ছাত্রদলই। পরদিন কাউন্সিলররা সংগঠনের সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, আদালতের আদেশের বিষয়ে বিএনপি নেতাদের আগেই একটি ধারণা ছিল। সেই বিবেচনায় একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা ছিল হাইকমান্ডের।

ঢাকা মহানগর উত্তরের একজন নেতা বলেন, ‘বুধবার বিকালের মধ্যে কাউন্সিলরদের ঢাকায় থাকার নির্দেশ এবং সন্ধ্যার মধ্যে মির্জা আব্বাসের বাড়িতে ভোট করার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় দ্রুত।’ আদালতের আদেশের বিষয়টিকে মাথায় রেখেই যেভাবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে, তাতে দীর্ঘদিন পর দল ‘প্রো-অ্যাকটিভ রাজনীতি’ করেছে বলে দাবি করেন এই নেতা।

বিএনপির দায়িত্বশীল পক্ষগুলোর পর্যবেক্ষণ, ছাত্রদলের নির্বাচনের পর প্রার্থীদের ফল মেনে নেওয়া, কোনও উল্লাস প্রকাশ না করা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয়টি থেকে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মৌলিক স্পিরিট পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে নব-নির্বাচিত ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপির প্রথম ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, বর্তমানে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে দেখা করে তাদের প্রথম কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ছাত্রদলের নব নির্বাচিত নেতৃত্ব বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর)। তাদের এই শ্রদ্ধার্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে ইতোমধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারি দাওয়াত দিয়েছেন।’

বিএনপির সূত্রগুলোর দাবি, নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে  ছাত্রদলের প্রতিই সব আশা করছে বিএনপি। ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ সংগঠনটির নতুন এই দুই নেতা তাদের নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেন শুভেচ্ছা বিনিময় করতে।

শুক্রবার নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অভিনন্দন বার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান নৈরাজ্য দূর করতে ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। দেশের ছাত্র সমাজের অতীত গৌরবের ধারায় দেশের হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবেন বলেও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’  খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনেও ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

/এসটিএস/এমএনএইচ/

x