আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ছাত্রদলের প্রথম দিনের কর্মসূচি পালিত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০০:৫৬ , অক্টোবর ১০ , ২০১৯

আবরার হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের মৌন মিছিল

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দোষী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিচার দাবিতে প্রথম দিনের কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। বুধবার (৯ অক্টোবর) সংগঠনটির সারাদেশের প্রায় সব শাখায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কক্সবাজার ও ফরিদপুর জেলায় পালন করা এই কর্মসূচিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে সংগঠনটির কিছু নেতা-কর্মীকে আহত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের বাধাসত্ত্বেও ঢাকাসহ দেশব্যাপী সকল জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

পাটোয়ারী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেছে। মৌন মিছিলটি ডাকসুর সামনে থেকে শুরু হয়ে কলাভবন ঘুরে অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে শেষ হয়। মৌন মিছিল শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মৌন মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল সকাল ৯ টায় কাঁঠালতলা থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার অভিমুখে রওনা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক আলী হাওলাদার, মিজানুর রহমান শরীফ, ছাত্রদল নেতা মো. আরেফিন, জাহিদসহ অন্তত ৭-৮ জন আহত গুরুতর আহত হন।

ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক জানান, বুধবার ঢাকা মহানগর পূর্ব, ঢাকা মহানগর পশ্চিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল,  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদল,  বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে।

এছাড়া দেশের প্রায় সব জেলা, মহানগর ও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি সফলভাবে পালন করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আবরার হত্যার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রদল। আজ বুধবার প্রথম দিনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

ছাত্রলীগের হামলায় আহত হওয়ার দাবি

এদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রথম দিনের কর্মসূচিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কক্সবাজার ও ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে কক্সবাজার শহর ছাত্রদল এর সহ-পাঠাগার সম্পাদক মো. নয়ন, উপজেলা সদর যুবদল সদস্য মোহাম্মদ জুনায়েদ, সিটি কলেজ ছাত্রদল এর প্রচার সম্পাদক আয়াতুল শিফাত, সদর উপজেলা ছাত্রদল এর সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল শাহেদ, সিটি কলেজ ছাত্রদল এর সহ-সভাপতি শাহেদুল ওয়াহেদ, শহর ছাত্রদল এর সদস্য নজরুল ইসলাম, শহর ছাত্রদল এর সদস্য মোহাম্মদ জাবেদ, শহর ছাত্রদল এর সাংগঠনিক সম্পাদক ইনজামামুল হক, শহর ছাত্রদল এর সদস্য মো. জিসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক আলী হাওলাদার, মিজানুর রহমান শরীফ, ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম, সাউফুল হক তাজ, শামসুল আরেফিন ও ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল নেতা আদনান অনু, শাহরিয়ার হোসেন জুয়েল, তুষার, রাইসুল ইসলাম রাজীবসহ আরও অনেক নেতাকর্মী। আহতদের রাজধানীসহ কক্সবাজার ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিবাদ

এদিকে, এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পৃথক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশকে রাজনীতি শূন্য করার নীল নকশার অংশ হিসেবে নিজেদের লালিত ছাত্রলীগের ক্যাডাররা খুন, জখম, হত্যা, গুম, দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মতো অপকর্মের মাধ্যমে দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগের লাগামহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দৌরাত্ম্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ছাত্রলীগের বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ও ভয়াবহ অবস্থা থেকে নিস্তার পেতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। 

 

/এসটিএস/টিএন/

x