মেসিতে বিধ্বস্ত জুভেন্টাস

স্পোর্টস ডেস্ক ০২:৩৬ , সেপ্টেম্বর ১৩ , ২০১৭

বার্সেলোনার জয়ের নায়ক মেসিথামানোই যাচ্ছে না তাকে। নতুন মৌসুমে গোলের নতুন শপথ নিয়েই যেন নেমেছেন লিওনেল মেসি। লা লিগায় নিজের ঝলক দেখিয়েছেন আগেই, এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন করে দেখালেন তার জাদু। যে জাদুতে জুভেন্টাসের বিপক্ষে প্রতিশোধের পর্বটাও মিটিয়ে ফেললো বার্সেলোনা। মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ন্যু ক্যাম্পে জুভেন্টাস বিধ্বস্ত ৩-০ গোলে। জোড়া গোল করেছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর, ইভান রাকিটিচের করা গোলের উৎসও তিনি।

গত মৌসুমে শুধু মেসি কেন, বার্সেলোনাকেই গোল করতে দেননি জিয়ানলুইজি বুফন। সেই রাগটা মেসির মধ্যে না থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু লুই সুয়ারেসের শট যেভাবে প্রতিহত করলেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক, তাতে গত মৌসুমের স্মৃতি বার্সেলোনা সমর্থকদের সামনে এসে থাকলেও থাকতে পারে। সেই দৃশ্য বদলানোর শপথ নিয়ে নেমেছিলেন মেসি চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আর্জেন্টাইন তারকা বিরতিতে যাওয়া আগ মুহূর্তে বুফনকে বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা। একই সঙ্গে দুর্দান্ত এক গোল করে এগিয়ে নিলেন বার্সেলোনাকে।

নেইমার চলে যাওয়ার পর বার্সেলোনা দলে এনেছে ওসমান দেম্বেলেকে। ফরাসি এই তরুণের কাছ থেকে বল পেয়ে সুয়ারেসের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান খেলে মেসি ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। একেবারে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে জড়ানোর কারণে বুফনের তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচে প্রথম সুযোগটা তৈরি করেছিল জুভেন্টাস। ১৩তম মিনিটে পিয়ানিকের জোড়ালো শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন টের স্টেগেন। বার্সেলোনা সবচেয়ে ভালো সুযোগটা পেয়েছিল ম্যাচ ঘড়ির ২০তম মিনিটে। কিন্তু গোলবারের নিচে দাঁড়ানো অভিজ্ঞ বুফনকে ফাঁকি দিতে পারেনি বার্সেলোনা। মেসির ফ্রি কিক প্রতিহত হয় জুভেন্টাসের মানব দেয়ালে। ফিরতি বলে জোড়ালো শট করেন লুই সুয়ারেস। কিন্তু বুফন দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন বল।

সমানতালে লড়ে গেছে সফরকারীরা। ২৮ মিনিটে মেসির ভুলে পাওয়া বল প্রতিআক্রমণে দিবালার পাস ধরে বাঁ প্রান্ত থেকে গোল মুখে শট করেছিলেন গনসালো হিগুয়েইন, যদিও দুর্বল শট ঠেকাতে কোনও সমস্যাই হয়নি টের স্টেগেনের।

৩৮ মিনিটে আবার সুযোগ আছে বার্সেলোনার। জুভেন্টাসের রক্ষণের ভুলে বক্সের ভেতর বল পেয়ে গিয়েছিলেন দেম্বেলে। পোস্টের সামনে কেবল বুফন, শটও নিলেন গ্রীষ্মের দলবদলে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ছেড়ে বার্সেলোনায় নাম লেখানো এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। কিন্তু রাখতে পারেননি পোস্টের মধ্যে। জুভেন্টাসের এক খেলোয়াড় পেছন থেকে ট্যাকল করলে বল চলে যায় বারের অনেকটা বাইরে দিয়ে। তবে ভুল করেনি মেসি, বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে লক্ষ্যভেদ করে এগিয়ে নেন বার্সেলোনাকে।

খেলায় ফিরতে মরিয়া জুভেন্টাস বিরতি থেকে ঘুরে এসেই সুযোগ তৈরি কওে ৪৮তম মিনিটে। দগলাস কোস্তার ক্রস জেরার্দ পিকে ঠেকালেও ফিরতি বলে জোড়ালো শট করেছিলেন দিবালা, কিন্তু চলে যায় বারের অনেকটা উপর দিয়ে। দ্বিতীয় গোলটা মেসি পেয়ে যেতে পারতেন ৫২ মিনিটেই, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় পোস্ট। জোর্দি আলবার পাস বক্সের একটু বাইরে থেকে মেসির নেওয়া শট আঘাত কওে গোল পোস্টে।
মিনিট চারেক পর অবশ্য প্রথম গোলের পর এবার অবদান রাখলেন দ্বিতীয় গোলে। লুই সুয়ারেসের পাস ডান প্রান্তে ধরে মেসি ঢুকে পড়েন জুভেন্টাসের বক্সে। এরপর ডান পায়ে বল করলেন সেন্টার, যদিও জুভেন্টাসের এক খেলোয়াড় বল ‘ক্লিয়ার’ করার চেষ্টা করেও ঠিকঠাক পারেননি, বল চলে আসে ফাঁকায় থাকা ইভান রাকিটিচের সামনে। জালে জড়ালে ভুল করেননি ক্রোয়েট মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয় গোলের পর মেসি৬৯ মিনিটে আবারও মেসি জাদু। দলের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে। প্রতিআক্রমণে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পাস ধরে জুভেন্টাসের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে প্রথমে জায়গা তৈরি করলেন, এরপর বাঁ পায়ের মাপা শটে করেন লক্ষ্যভেদ।
বাকি সময়ে আরও কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বার্সেলোনা। সফল না হলেও বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x