প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে আবাহনীর সূর্যোদয়!

তানজীম আহমেদ ১৮:৪২ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

26685234_201341220443964_1251192283643380501_oচট্টগ্রাম আবাহনী যেভাবে এগোচ্ছিল, ধরেই নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা যাচ্ছে তাদের ঘরে। কিন্তু শেষের দিকে এসে পয়েন্ট হারিয়ে শীর্ষস্থানচ্যুত তো হলোই; চ্যাম্পিয়ন হওয়া দূরে থাক, জুটলো না রানার্সআপের মর্যাদাও। বরং লিগ জমিয়ে দিয়ে ষষ্ঠ শিরোপা হাতে নিয়েছে ঢাকা আবাহনী।

হয়ে গেলো পেশাদার লিগের ১০টি আসর। কিন্তু এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ আগে হয়েছে কিনা সংশয় আছে। শুধু চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই হয়নি, রেলিগেশন অঞ্চলেও ছিল সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শেষ পর্যন্ত ফরাশগঞ্জকে বিদায় করে পড়শি রহমতগঞ্জ টিকে গেছে।

লিগে বারবারই ছেদ পড়েছে। এত কিছুর পরেও ঠিকই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এবারই একাদশে দুই বিদেশি নামিয়ে ক্লাবগুলো স্থানীয়দের সুযোগ করে দেয়। এতে করে দলগুলোর মধ্যে কিছুটা শক্তির তারতম্য ছিল। যে কারণে স্থানীয়দের সুযোগ করে দেওয়া এবং এর কতটুকু সঠিক ব্যবহার হয়েছে- এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। গোলদাতার দিকে তাকালেই সেটা পরিষ্কার।

আগের মতোই বিদেশি খেলোয়াড়রা শীর্ষ গোলদাতার আসনে। মাঝারি মানের খেলোয়াড়দের নিয়ে চমক দেখিয়েছে শেখ জামাল, রানার্সআপ হয়েছে। তাদের দুই ফরোয়ার্ড ১৫টি করে গোল করে যৌথভাবে শীর্ষস্থান পেয়েছে। নাইজেরিয়ান রাফায়েল ও গাম্বিয়ান সলোমন কিং ছিলেন দুই কাণ্ডারি। মোহামেডানের কিংসলে ১৩ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে। ব্রাদার্সের কংগোলিজ স্ট্রাইকার সিও জুনাপিওর গোল ১০টি।

আর লিগের দ্বিতীয় পর্বে খেলতে নেমে আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা ৯ গোল করে তো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রথম পর্ব থেকে খেলতে পারলে হয়তো বা সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতো।

বিদেশিদের মাঝে দেশের পতাকা উড়িয়েছেন তৌহিদুল আলম সবুজ। ৮ গোল করে অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন। ৬ গোলে ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দীনের জায়গা তার পরেই। সাখাওয়াত রনি, নাবীব নেওয়াজ জীবনসহ অন্য স্থানীয় ফরোয়ার্ডরা সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। কোথায় বিদেশি কমে যাওয়ায় তারা জ্বলে উঠবেন! কিন্তু কই? নিভু নিভু জ্বলেছে তাদের পারফরম্যান্স! জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ডের কপালে তাই চিন্তার ভাজই থাকবে।

বাংলাদেশের কোচের চিন্তার ভাজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। এর মধ্যে দেশের তিন তারকার পারফরম্যান্স বেশি চোখে পড়েছে। মামুনুল, জাহিদ ও এমিলির পারফরম্যান্স আশা জাগানিয়া ছিল না। মামুনুল তো লিগই ঠিক মতো খেলতে পারেননি। জাহিদ খেলেছেন। তবে আগের সেই পারফরম্যান্স ছিল না। আর এমিলি তো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। লিগে মাত্র একটি গোল তার!

এখন ওর্ডের দলে অনেক নতুনের ভিড় দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর ঢাকাময় লিগের শেষের দিকে এসে রেলিগেশন বাঁচানোর জন্য দুটি দলের খেলা তো ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এত কিছুর পরেও লিগ শেষ হয়েছে- এতেই অনেকে খুশি!

/টিএ/এফএইচএম/

x