BPO Summit

বাফুফেতে ডিডো-দর্দেভিচ ‘ভূত’!

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৫:১১ , এপ্রিল ১৬ , ২০১৮

বামে ডিডো, ডানে দর্দেভিচ।দুজনেই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। বাফুফের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে বেশি দিন জাতীয় দলের কোচ থাকতে পারেননি। একজন ব্রাজিলিয়ান কোচ এডসন সিলভা ডিডো। অন্যজন সার্বিয়ান জোরান দর্দেভিচ।  দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এখনও তারা বাংলাদেশের মায়া ছাড়তে পারেননি! তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কোচের পদ ছাড়লেও এখনও স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশে ফেরার। আবারও বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী এই দুই কোচ!

আর এ কারণেই হঠাৎ হঠাৎ বাফুফেতে ফোন করে চলেছেন দুজনে। বায়োডাটা পাঠিয়ে আবেদনও করেছেন। বাফুফেতে যেন পুরোনো ‘ভূত’ হিসেবেই আবির্ভুত হয়েছেন সাবেক এই দুই কোচ।

তবে যে তিক্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে দুজনকে বিদায় নিতে হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আবারও দায়িত্ব পাওয়া তাদের জন্য বেশ কঠিনই। কেননা এ দুজনকে সামলাতে বাফুফেকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তাই নতুন করে আর যন্ত্রণা নিতে চায় না বাফুফে।

২০০৯ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের আগে ব্রাজিলিয়ান কোচ ডিডো বাংলাদেশের কোচ হয়ে এসেছিলেন। ঢাকার মাঠে গ্রুপ পর্বে রানার্সআপ করে দলকে চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ঢাকার সাফ ফুটবলেও তার থাকার কথা ছিল। কিন্তু আটজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে জন্ম দেন বিতর্কের।  এর জেরে সাফের আগেই তাকে বরখাস্ত করে বাফুফে।  এ নিয়ে কম হট্টগোল হয়নি। ঢাকা ছাড়ার আগে বাফুফের প্রতি বিষোদগার করতেও ছাড়েননি ডিডো।

ডিডোর পর এসএ গেমসের জন্য আসেন সার্বিয়ান জোরান দর্দেভিচ। একটু পাগলাটে স্বভাবের কোচ হলেও ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করার দারুণ ক্ষমতা ছিল তার। দর্দেভিচের অধীনেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এসএ গেমসের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু হলে কী হবে? তার মেয়াদ ও বেতন বাড়ানো নিয়ে বেশ নাটক হয়েছিল তখন। যে কারণে তাকেও বিদায় নিতে হয়েছিল।

বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের প্রথম মেয়াদে ডিডো ও দর্দেভিচ বেশ ভুগিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। তারা জাতীয় দলকে সাফল্য এনে দিলেও নিজেদের আচরণ ও বিরুদ্ধ স্বভাবের কারণে বেশি দিন টিকতে পারেননি। সেই দুই কোচ এখনও বাংলাদেশের মায়া ছাড়তে পারেননি। ফুটবল অঙ্গনে কথিত আছে, বাংলাদেশ থেকে যে বিদেশি কোচ চলে যান, তার পক্ষে অন্য দেশে চাকরি পাওয়া কঠিন। তাদের বড় অংশই বেকার থেকে যায়।  ডিডো, নেদারল্যান্ডসের লুডভিক ডি ক্রুইফ আর আর্জেন্টাইন আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি এর বড় উদাহরণ।

জোরান দর্দেভিচ বাংলাদেশ ছাড়ার পর নিয়মিত বাফুফে কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে জাতীয় দলে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। এখন তার ছেলে ফোন দিয়ে বাবার কথা বলেছেন। আর ডিডো তো বায়োডাটা পাঠিয়ে রেখেছেন।

ডিডো বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমি যে জায়গা থেকে শুরু করেছিলাম, সে জায়গা থেকে আবারও বাংলাদেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে চাই। প্রিমিয়ার লিগের নবাগত বসুন্ধরা কিংসে চেষ্টা করেছিলাম। আমার বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা পেয়েছে তারা। কীভাবে পেলো জানি না। তবে এখনও স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশের ফুটবলের দায়িত্ব নেবো, নতুন করে শুরু করবো।’

দুজনের সম্পর্কে বাফুফের এমনই নেতিবাচক ধারণা যে তাদের প্রাথমিকভাবে গণ্যই করা হচ্ছে না। তাই তাদের আশা পরিণত হচ্ছে দুরাশায়। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ দুজনের সম্ভাবনার কথা নাকচ করে বলেছেন, ‘দর্দেভিচের ছেলে ফোন দিয়েছেন। তার বাবা আবারও কোচ হতে চান। ডিডোরও আবেদন পেয়েছি আমরা। জাতীয় দলের কোচের পদে সবাই আবেদন করতে পারবে। কিন্তু আমরা পুরোনো কাউকে আনছি না। নতুন কাউকে কোচ করা হবে।’

/টিএ/এফআইআর/

x