আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ দেখছেন মাহমুদউল্লাহ

বাংলা ট্রিবিউন ‍রিপোর্ট ১৯:৪৯ , মে ১৭ , ২০১৮

অনুশীলনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ছবি-বিসিবি।র‌্যাংকিং বিবেচনায় নিলে ২০ ওভারের ক্রিকেটে শক্ত প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান।  গত কয়েক বছরে আরও পরিণত হয়েছে আফগানরা।  সেই আফগানদের বিপক্ষে দেরাদুনে ৩ জুন থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।  রশিদ খানদের বিপক্ষে এই সিরিজে ব্যাটিংকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটিং বিভাগকেই এগিয়ে রাখলেন অভিজ্ঞ এই তারকা। মাহমুদউল্লাহর মতে, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ের গভীরতা ভালো। তাই এই বিভাগে আমাদের জোর দিতে হবে। ব্যাটসম্যানরা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে, আমাদের জন্য ম্যাচ জেতা সহজ হবে।’

প্রতিপক্ষদের বোলিং বিভাগও কম শক্তিশালী নয়। ওদের আছে বিশ্বমানের স্পিনার রশিদ খান। টি-টোয়েন্টির বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছেন। সেই দলটির বোলিং বৈচিত্র্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ, ‘ওদের বোলিংয়ে ভালো বৈচিত্র্য আছে।  আমার মনে হয় খুব ভালো একটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে, বিশেষ করে আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য। আশা করি ব্যাটসম্যানরা আফগানিস্তান সিরিজে ভালো করতে পারবে।’ ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বোলারদের নিয়েও আশাবাদী, ‘আমাদের বোলিং বিভাগও ভালো। সাকিব আছে, অপু আছে, মিরাজ আছে; আমাদের বোলিংয়েও কিন্তু বৈচিত্র্য আছে।’

আফগানিস্তানের তিন স্পিনত্রয়ী রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও মুজিব-উর-রহমান বাংলাদেশকে কঠিন সময় উপহার দেবে।  বিশেষ করে অফস্পিনার মুজিব-উর-রহমানের বোলিং নিয়ে কোনও অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের। এই অফস্পিনারের বোলিং ফুটেজ দেখে তাকে খেলার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছে সাকিবরা।  মাহমুদউল্লাহ স্পষ্ট করে জানালেন প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকলেও বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে চানা না তারা, ‘আমরা ইতোমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। যদিও আমি মুজিবের মুখোমুখি হইনি। রশিদ খানকে খেলেছি। আগেও বলেছি ওদের বোলিং আক্রমণের ভিন্নতা আছে, আমাদের ওদের বিপক্ষে খেলার মতো ব্যাটিং গভীরতা আছে। ওদের শক্তি, আমাদের শক্তিতেও ভিন্নতা আছে। তাই এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমরা নিজেদের শক্তিগুলোর দিকে ফোকাস করতে চাই।নিদাহাস ট্রফিতে যেভাবে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়ে খেলেছি, সেই বিষয়গুলো এখানে প্রয়োগ করতে পারলে ইতিবাচক ফল সহজেই আসবে।’
একবারই আফগানদের বিপক্ষে ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। নিজেদের মাটিতে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছিলেন সাকিব-তামিমরা।  প্রেরণার রসদ থাকার পরেও আসন্ন সিরিজে মাহমুদউল্লাহ নিজেদের এগিয়ে রাখছেন না, ‘আমি ব্যক্তিগতভবে মনে করি টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বড় দল, ছোট দল বলতে কিছু নেই । নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলতে পারবে, তারাই জিতবে। তবে আমাদেরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। সেটা আফগানিস্তান হোক, ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়া; যেই হোক না কেন।  টি-টোয়েন্টি সংস্করণে কামব্যাক করার সুযোগ খুবই কম। এই কারণে শুরুটা আমাদের ভালো করতে হবে। প্রতিটি বিভাগে আমাদের ভালো করতে হবে।’

৬৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৪৬ ইনিংসে বোলিং করেছেন মাহমুদউল্লাহ। যদিও বেশিরভাগ ম্যাচেই কোটা পূরণ করেননি। সামনের সিরিজগুলোতে নিয়মিত বোলিং করার পরিকল্পনার কথা জানালেন নিদাহাস ট্রফিতে অধিনায়ক থাকা মাহমুদউল্লাহ, ‘নিদাহাস ট্রফিতে মোটামুটি নিয়মিত বোলিং করেছি। এই মুহূর্তে ফিটনেস ও ব্যাটিং ‍নিয়ে কাজ করছি। কিছুদিনের মধ্যে বোলিং শুরু করবো। আশা করি সামনে নিয়মিত বোলিং করতে পারবো।’

/আরআই/এফআইআর/

x