বাংলাদেশে বিশ্বকাপ জ্বর

আসিফ আহমেদ ১৯:১৫ , জুন ১৪ , ২০১৮

‘জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ।’ বিশ্বকাপের আনন্দযজ্ঞে শুধু আমার-আপনার নয়, সবার নিমন্ত্রণ। একটা মাস শুধুই ফুটবল-উৎসবে মেতে ওঠা, ফুটবলের সাগরে অবগাহন করা। রাস্তা-ঘাট, পাড়ার মাঠ, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, চায়ের আড্ডা—সবখানে শুধু ফুটবল আর ফুটবল। শিশু থেকে বৃদ্ধ  কেউ এই উৎসবের বাইরে নয়। আর কোনও খেলা বা টুর্নামেন্ট কি এক সুতোয় গাঁথতে পারে সারা দুনিয়াকে? ফুটবল বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য এখানেই।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই, কোনও দিন খেলবে এমন কল্পনা করার সাহসও আমরা দেখি না হয়তো। তবু বিশ্বকাপ এলে তোলপাড় পড়ে যায়, প্রিয় দলের পতাকা আর জার্সি নিয়ে মেতে ওঠে অনেকে। কেউ বা পছন্দের দলের পতাকার রঙয়ে সাজিয়ে তোলে বাড়ি। বিশ্বকাপে খেলার সামান্য সম্ভাবনাও যে দেশের নেই, সে দেশের মানুষও ভেসে যায় ফুটবল-মহাযজ্ঞের আনন্দ স্রোতে। এজন্যই এটা ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনার সূচনা ১৯৮৬ সালে। সেবারই বিটিভির কল্যাণে বেশিরভাগ ম্যাচ সরাসরি দেখার সুযোগ পায় এদেশের মানুষ। কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ আর বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোল, ব্রাজিল-ফ্রান্সের অনিন্দ্যসুন্দর লড়াই, জিকোর পেনাল্টি মিস, টাইব্রেকারে সক্রেটিস আর প্লাতিনির ব্যর্থতা, ম্যারাডোনার প্রায় একক প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনার শিরোপা—নাটকীয়তা আর উত্তেজনায় ভরা বিশ্বকাপের সঙ্গে সেবারই ভালো মতো পরিচয় বাংলাদেশের মানুষের। ব্রাজিলের বিপুল সমর্থক গোষ্ঠীতে আর্জেন্টাইন আগ্রাসনও সেই বিশ্বকাপ থেকেই। সৌজন্যে ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

এরপর যত দিন গড়িয়েছে, বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা বেড়েছে তত, বিশ্বকাপের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে বাংলাদেশ। ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার হার কাঁদিয়েছে এদেশের লাখ-লাখ ভক্তকে। আবার এক যুগ পর ব্রাজিলের পঞ্চম শিরোপা বহু মানুষকে ভাসিয়েছে খুশির জোয়ারে।

আসলে বিশ্বকাপের সঙ্গে একাকার হয়ে যায় এদেশের মানুষ। এ এমনই এক ‘নেশা’, যার থেকে দূরে থাকা মুশকিল। এবারও বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। মেসি-রোনালদো-নেইমার-সুয়ারেসকে নিয়ে চারদিকে শুধু আলোচনা। মেসি কি আর্জেন্টিনার দীর্ঘ দিনের আক্ষেপ ঘোচাতে পারবেন? নেইমারের হাত ধরে আসবে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’? নাকি ইউরোর পর বিশ্বকাপ জিতে নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবেন রোনালদো? ফুটবল ভক্তদের মুখে মুখে ঘুরছে প্রশ্নগুলো।  

আগামী একটা মাস ফুটবল নিয়ে চলবে আলোচনা, ফুটবলের জোয়ারে ভেসে যাবে সারা দেশ। বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা হয়তো আমাদের নেই, কিন্তু ফুটবলের শ্রেষ্ঠ আসরে শুধু আবেগ দিয়ে অংশগ্রহণের প্রতিযোগিতা থাকলে বাংলাদেশ ওপরের দিকেই থাকতো নির্ঘাত!

 

ছবি-সাজ্জাদ হোসেন

এএআর/

x