ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে

স্পোর্টস ডেস্ক ০১:৫১ , জুলাই ১২ , ২০১৮

ক্রোয়েশিয়ার সমতায় ফেরার আনন্দসেমিফাইনালের আগে মারিও মানজুকিচ জানিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে ক্রোয়েশিয়া। শুধু কথায় নয়, কাজেও তার প্রমাণ দিলেন তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লড়াই করে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। তাতে নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় মস্কোর সেমিফাইনাল গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।

কিয়েরন ট্রিপিয়ারের লক্ষ্যভেদে শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করা ইংলিশরা ওই গোলের লিড নিয়েই যায় বিরতিতে। বিপরীতে খেলার ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠা ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে ইভান পেরিশিচের লক্ষ্যভেদে।

স্বপ্নের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার হাতছানি ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার সামনে। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হয় দল দুটি। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংলিশরা, তাদের লিড এনে দেন ট্রিপিয়ার।

বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া চমৎকার ফ্রি কিক জালে জড়িয়ে গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ তোলেন তিনি। ডেলে আলীকে বক্সের বাইরে লুকা মদরিচ ফাউল করলে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। ম্যাচের প্রথম সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি ট্রিপিয়ার। এই রাইট ব্যাক ক্রোয়েশিয়ার মানব দেয়ালে ওপর দিয়ে বাঁকানো ফ্রি কিকে করেন লক্ষ্যভেদ।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ফ্রি কিক গোল দেখা গেলেও নকআউট পর্বে পাওয়া যায়নি। সেই ‘আক্ষেপ’ই দূর করলেন ট্রিপিয়ার। রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটাই প্রথম ফ্রি কিক গোলের প্রথম উদাহরণ।

ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে থাকা হ্যারি কেইন পারলেন না নিজের গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে। একেবারে ফাঁকা জায়গা থেকে সামনে শুধু গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচকে একা পেয়েও লক্ষ্যভদ করতে ব্যর্থ ইংলিশ অধিনায়ক! ৩০তম মিনিটে জেসি লিনগার্ডের ডিফেন্সচেড়া পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলমুখে শট করলেও প্রতিহত করেন সুবাসিচ। ফিরতি বলে আবারও শট করেছিলেন টটেনহাম স্ট্রাইকার, তবে ততক্ষণে সহাকারী রেফারি জানান তিনি অফসাইড।

পরের মিনিটেই সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করে ক্রোয়েশিয়ার। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। ডানপ্রান্ত থেকে আন্তে রেবিচ দারুণ এক ক্রস করেছিলেন, ইংলিশ ডিফেন্ডান জন স্টোনস ‘ক্লিয়ার’ না করলে বিপদ হতেই পারতো। এরপরও শঙ্কা তৈরি হয় ফিরতি বলে রেবিচ শট করলে, যদিও ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড সহজেই প্রতিহত করেন তার শট।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে গতি বাড়ে ক্রোয়েশিয়ার, বিপরীতে ইংল্যান্ডের গতি অনেকটাই কমে আসে। যদিও ক্রোয়েটরা সুবিধা করতে পারছিল না। ৬৫ মিনিটেই যেমন আরেকবার আটকে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিশিচের নেওয়া শট প্রতিহত হয় ওয়াকারের গায়ে লেগে। ইংলিশ ডিফেন্ডারের পেটে গিয়ে বল আঘাত না করলে বল জড়ালে জড়াতেই পারতো! ডানপ্রান্ত থেকে লুকা মডরিকের ক্রস ইংলিশ এক ডিফেন্ডার ‘ক্লিয়ার’ করলেও ফিরতি বলে জোরালো শট করেছিলেন পেরিশিচ, কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙা যায়নি তাতে।

মিনিট তিনেক পর আর হতাশ হতে হয়নি পেরিশিচকে। ৬৮ মিনিটে তার চমৎকার গোলেই সমতায় ফেরে ক্রোয়েটরা। ম্যাচে ফিরতে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়ছিল, ফুটবলদেবতা হতাশ করেননি তাদের। পেরিশিচের লক্ষ্যভেদে ১-১ সমতায় ফেরে মস্কোর সেমিফাইনাল।

বিরতিতে থেকে ঘুরে এসে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। যদিও সুবিধা করতে পারছিল না ইংল্যান্ডের কড়া রক্ষণের সামনে। অবশেষে ৬৮ মিনিটে আসে সেই মধুর সময়, যখন পেরিশিচের চমৎকার গোলে খেলায় ফেরে ক্রোয়েটরা।

ডানপ্রান্ত থেকে শিমে ভ্রাসাইকোর ক্রস বক্সের ভেতর থেকে অনেকটা পা উঁচিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন পেরিশিচ। ইংলিশ ডিফেন্ডার ওয়াকার নিচু হয়ে হেড করার চেষ্টা করলেও পেরিশিচের পা খুঁজে নেয় বল, আর সেই পায়ের ছোঁয়ায় বল জড়িয়ে যায় জালে। বক্সের ভেতর থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

পরের মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ভাগ্যদেবতা এবার মুখ তুলে তাকাননি, স্কোরশিটে নাম তোলা পেরিশিচের এবারের শট আঘাত করে পোস্টে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কোনও দলই আর গোল করতে না পারায় মস্কোর সেমিফাইনাল গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

/কেআর/

x