‘এশিয়া কাপের সুখস্মৃতি আমাদের সঙ্গী’

রবিউল ইসলাম ১২:৪৩ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৮

জাহানারা আলমএশিয়া কাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসের পারদ আকাশ ছোঁয়া। বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরেও দেখছে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন, যার শুরুটা হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আজ (শুক্রবার) শুরু হতে যাওয়া ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন, লক্ষ্য কী, ব্যক্তিগত স্বপ্নই বা কী- এই নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বমঞ্চে লড়াই করতে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন?

জাহানারা আলম: বিশ্বকাপের আগে আমরা ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছি। ওখানে টি-টোয়েন্টি ভালো না হলেও ওয়ানডেতে আমরা জিতেছি। এছাড়া এখানে এসে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। সব মিলিয়ে আমি মনে করে আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। এছাড়া এশিয়া কাপে আমাদের একটা সুখস্মৃতি আছে। এরপর আয়ারল্যান্ড সিরিজ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব সবখানেই আমরা ভালো খেলেছি। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা বিশ্বকাপ খেলতে নামব। বলব না যে আমরা অতিরিক্তি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের মতো অনভিজ্ঞ দলের এমন মঞ্চে পারফরম্যান্স করা খুব সহজ কোনও ব্যাপার নয়। 

প্রশ্ন: পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্প্রতি খেলা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সব ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। এটা দুশ্চিন্তার নয় কী?

জাহানারা: আমরা আমাদের মানসিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। হতে পারে আমরা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্প্রতি সব ম্যাচেই হেরেছি। ম্যাচের ভেতর বোলিং-ব্যাটিংয়ে কিংবা ফিল্ডিংয়ে অনেক সময় ছোটখাটো কিছু ভুল হয়। সেগুলো শুধরে নিয়ে মাঠে নামতে পারলে সমস্যা হবে না। নিজেদের ভুলগুলো শোধরাতে আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুই সপ্তাহ আগে এসে এখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই দুই সপ্তাহ আমরা ভালোই কাজ করেছি। যার যার জায়গাগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। আমার বিশ্বাস বিশ্বকাপের মঞ্চে আমরা ভালো কিছু করে দেখাতে পারব।

প্রশ্ন: এই ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে খেলা কতটা কঠিন?

জাহানারা: যে দলগত পারফরম্যান্স আমরা এশিয়া কাপে করেছি সেটা হলো, প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে অবদান রেখেছিল। এটা যদি বিশ্বকাপে করতে পারি তাহলে যে কোনও দলকেই আমরা হারাতে পারি। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এটা ওয়েস্ট ইন্ডিজও হতে পারে। তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ভালো ক্রিকেট খেললে তাদের বিপক্ষেও জেতা সম্ভব। আমরা যদি ভালো খেলতে পারি, সামনে যে দলই আসুক আমাদের জয় অসম্ভব নয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ স্পিন নির্ভর দল। তবে কন্ডিশনের কারণে পেসারদেরই বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। দলের পেসাররা কতটা প্রস্তুত?

জাহানারা: ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশন পেসারদের জন্য অনেক সহায়ক হয়। উইকেট-আবহাওয়া থেকে পেসাররা বাড়তি সহায়তা পায়। আমাদের মেয়ে দল এবারই প্রথম ওখানে যাচ্ছে, যে কারণে আমরা কেউই উইকেট সম্পর্কে জানি না। আমাদের পেস আক্রমণ সবসময় ভালো ছিল। তবে ফিল্ডিংয়ে কিছু সমস্যার কারণে পেসাররা সাফল্য পাচ্ছিল না। অল্পস্বল্প সুযোগকে কীভাবে পূর্ণ করা যায় সেটা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পেস আক্রমণে অনেক সময় ফিল্ডারদের ভূমিকা বেশি থাকে। আমরা ঠিকমতো সুযোগগুলো নিতে পারলে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা যাবে।

প্রশ্ন: একজন পেস বোলারের জন্য আদর্শ উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আপনি কতটা রোমাঞ্চিত?

জাহানারা: আমি অনেক খুশি। এই উইকেটে বোলিং করার ইচ্ছা সবার থাকে। আমি যেহেতু আউটসুইং করতে পারি, স্বপ্ন দেখি দুটি স্লিপ নিয়ে বোলিং করব। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে বল লেগে স্লিপে কিংবা কিপারের হাতে যাবে। এইসব ভাবতে ভালো লাগছে। আশা করি তেমন কিছুই হবে। উইকেটের সহায়তা একজন বোলারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: লোয়ার অর্ডারে নিজের ব্যাটিং নিয়ে পরিকল্পনা কী?

জাহানারা: দলের বর্তমান কোচরা আমাকে ব্যাটিংয়ের জন্য জায়গা করে দিয়েছেন। আমার কোনও নির্দিষ্ট পজিশন নেই। একটা সময় ১১ নম্বরে ব্যাটিং করতাম। এখন ৫ বা ৬ নম্বরে ব্যাটিং করি মাঝেমধ্যে। দেখা যায় ১৫ ওভারের পর থেকে প্যাড-গ্লাভস পরে বসে থাকি। লং হিটের অনুশীলন করেছি, যেন গিয়েই স্ট্রাইক রেট বাড়িয়ে নিতে পারি। 

প্রশ্ন: প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার তেমন অভিজ্ঞতা নেই, এটা কতটা নেতিবাচক?

জাহানারা: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমরা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না। গত বিশ্বকাপে আমরা একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। এভাবে হুটহাট খেলে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান কিংবা বোলারদের বোঝা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমাদের দলে একজন ভিডিও বিশেষজ্ঞ আছেন, তিনি আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন। শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমার খুব ভালো করে জানি। ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটু চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাদের সম্পর্কে ধারণা পেতে ভিডিও দেখা ছাড়া কোনও উপায় নেই।

প্রশ্ন: এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী?

জাহানারা: আমি তো মনে করি, বাংলাদেশ সেমিফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। দুটি ম্যাচ জিততে পারলে স্বপ্নটা সত্যি হয়ে যাবে। তবে কাজটা অনেক কঠিন। মুখ দিয়ে বলার মতো সহজ কথা নয় সেমিফাইনাল খেলা। ম্যাচ ধরে ধরে আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। আমাদের শুরুটা ভালো করা জরুরী। ভালো পারফরম্যান্সের কোনও বিকল্প নেই। দল হিসেবে পারফরম্যান্স করতে পারলে এই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।

/আরআই/এফএইচএম/

x