শিরোপা যেন মোহামেডানের জন্য সোনার হরিণ!

তানজীম আহমেদ ১৯:৩৭ , জানুয়ারি ১১ , ২০১৯

এ মাসেই শুরু হওয়ার কথা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। ১৩ দলের এবারের প্রতিযোগিতায় দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস। লিগ শুরুর আগে দলগুলোর প্রস্তুতি কেমন, কী তাদের প্রত্যাশা, আর তা পূরণে লক্ষ্যই বা কী- তা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের এই ধারাবাহিক আয়োজন। আজ থাকছে গত আসরে পঞ্চম ঢাকা মোহামেডানকে নিয়ে-

ঢাকা মোহামেডান

ঢাকার ফুটবলে মোহামেডানের ঈর্ষণীয় সাফল্য। অজস্র ট্রফিতে সমৃদ্ধ সাদা-কালো শিবিরের ক্যাবিনেট। একসময় আবাহনীর সঙ্গে মোহামেডানের লড়াই তো অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিল ফুটবলকে। অথচ অনেক দিন ধরে সেই দলের ঘরে কোনও শিরোপা নেই। ভাবা যায়, মোহামেডান শেষ শিরোপা জিতেছিল ২০১৪ সালে স্বাধীনতা কাপে! এক যুগ আগে পেশাদার লিগ শুরু হলেও আজ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ঐতিহ্যবাহী দলটি।

কয়েক বছর ধরেই শিরোপা জেতার মতো দল গড়তে ব্যর্থ মোহামেডান। মাঠের ফলেই তা প্রতিফলিত। গতবার লিগে সন্তুষ্ট ছিল পঞ্চম স্থান নিয়ে। এবার ফেডারেশন ও স্বাধীনতা কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। মাঝারি মানের দল নিয়ে এবারও লিগ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে না মোহামেডান।

তেমন স্বপ্ন দেখাও অবশ্য কঠিন। দলে তারকা বলতে তেমন কেউ নেই। জাহিদ হাসান এমিলি এখনও মোহামেডানের সঙ্গী। তবে এক সময়ের দেশসেরা স্ট্রাইকার অনেক দিন ধরে ছন্দে নেই। প্রতিষ্ঠিতদের মধ্যে মিডফিল্ডার ফয়সাল মাহমুদ এবং ডিফেন্ডার নাসিরুল ইসলাম খুঁজে নিয়েছেন অন্য দলের ঠিকানা। ২১ জন নবাগতর মধ্যে মিঠুন চৌধুরী, আতিকুর রহমান মিশু, মেজবাবুল মানিক ও পাশবন মোল্লার মোটামুটি পরিচিতি আছে ঢাকার ফুটবলে।

মৌসুমের শুরুতে বিদেশি কোচ ক্রিস্টোফার ইভান্সের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন ক্লাব কর্তারা। মোহামেডান সমর্থকরাও আশায় বুক বেঁধেছিল অনেকদিন পর। কিন্তু ফেডারেশন কাপে ব্যর্থতার পর দেশে ফিরে যাওয়া ইংলিশ কোচ আর আসেননি।

তাই আলী আজগর নাসিরের কাঁধে মোহামেডানের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব। ডিসেম্বরের শেষ দিকে কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। মানে প্রিমিয়ার লিগই তার প্রথম ‘অ্যাসাইনমেন্ট’। দীর্ঘ দিন কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত নাসির শিরোপার কথা ভাবতেও পারছেন না, ‘এই দল নিয়ে বড় কিছুর আশা করলে ভুলই হবে। সবার আগে আমি দলটা গুছিয়ে নিতে চাই, যেন দীর্ঘ পরিসরের লিগে ভালো খেলতে পারে। মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে লিগ শেষ করতে পারলেই মনে করবো আমরা সফল।’

মোহামেডানের এবারের দল নিয়ে তার বিশ্লেষণ, ‘আমাদের দলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, কিন্তু তাদের ক্যারিয়ার শেষের দিকে। তাদের কাছ থেকে কতটা সার্ভিস পাবো জানি না। আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চও ভালো নয়। তবু ভালো করার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। বিদেশিদের ওপরে নির্ভর করছে আমাদের সাফল্য।’

গাম্বিয়ার মিডফিল্ডার ল্যান্ডিং ডারবো, জাপানের মিডফিল্ডার উরু নাগাতা, নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড কিংসলে চিগোজি ও ডিফেন্ডার ওরিয়াকু চিটাচিকে দিয়ে বিদেশি কোটা পূরণ করেছে মোহামেডান।

অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান মিশুর কণ্ঠেও শিরোপা লড়াইয়ের কথা নেই, ‘মৌসুমের প্রথম দুটি টুর্নামেন্টে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো হয়নি। তবে আস্তে আস্তে আমরা গুছিয়ে নিচ্ছি নিজেদের। এবার পাঁচ-ছয়টি ভালো মানের দল আছে, তাই তীব্র লড়াই হবে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চিন্তা করছি না। মোটামুটি ভালো করতে পারলেই আমরা খুশি।’

স্থানীয় খেলোয়াড়: আহসান হাবিব বিপু, মোহাম্মদ লিংকন, জহিরুল ইসলাম, মিন্টু শেখ, খোকন মিয়া, আতিকুর রহমান মিশু, এনামুল হক শরীফ, মিঠুন চৌধুরী, জাহিদ হাসান এমিলি, তকলিছ আহমেদ, মেজবাবুল হক মানিক, কায়সার আলী রাব্বি, হাবিবুর রহমান সোহাগ, ইবায়েদ হাসান কোমাল, মিঠুন ভূঁইয়া, ইউসুফ সিফাত, মোহাম্মদ জাভেদ, শেখ গালিবে নেওয়াজ, সারওয়ার জাহান, পাশবন মোল্লা, অনিক ঘোষ, সাইফুল আরেফিন রুবেল, আবিদ হোসেন সাইফ, সাফায়েত মুন্না, আমির হাকিম বাপ্পী, আল আমীন, সালাউদ্দিন রুবেল, ফুয়াদ সাফাত রাকিব চৌধুরী, সৈয়দ সামিউল হক ওনিন ও খন্দকার সাদ ইশতিয়াক।

বিদেশি খেলোয়াড়: ল্যান্ডিং ডারবো, উরু নাগাতা, কিংসলে চিগোজি ও ওরিয়াকু চিটাচি।

/টিএ/এএআর/

x