ঢাকার চতুর্থ নাকি কুমিল্লার দ্বিতীয়!

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১২:৩১ , ফেব্রুয়ারি ০৮ , ২০১৯

অনুশীলনে ঢাকা ও কুমিল্লাবাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগে আগের ৫ আসরে চারবার ফাইনাল খেলেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের ‘ফাইনালের দল’ বললে ভুল হবে না। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পঞ্চমবার শিরোপার লড়াইয়ে উঠেছে ঢাকা। তাদের প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অবশ্য এদিক দিয়ে পিছিয়ে। কিন্তু ২০১৫ সালে অভিষেকেই শিরোপা জিতে বাজিমাত করেছিল তারা। এবার তাদের সামনে দ্বিতীয় ট্রফির হাতছানি, আর ঢাকার চার নম্বর।

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে কে শিরোপা উৎসব করবে তার উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আর কয়েক ঘণ্টা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হবে ঢাকা ও কুমিল্লা। যারা স্টেডিয়ামে যেতে পারবেন না তারা ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারবেন গাজী টিভি ও মাছরাঙা টেলিভিশনে। বাংলাদেশ সফরে আসা আইসিসির সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর ম্যাচটি উপভোগ করবেন।

গত আসরের ফাইনালিস্ট ঢাকার এবার শুরুটা হয়েছিল দুরন্ত। টানা চার ম্যাচ জিতে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ঢাকা পর্ব শেষ করেছিল তারা। কিন্তু এরপর একের পর এক হারে প্লে অফে খেলাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত টানা ৫ ম্যাচ হারের পর খুলনা টাইটানসকে হারিয়ে এলিমিনেটর নিশ্চিত করে তারা। সেখানে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে জয়ের পর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গতবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে আবারও ফাইনালে সাকিব আল হাসানের দল। ধুঁকতে থাকা দলটি এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারের শেষ ধাপে।

শক্তি-সামর্থ্যে এবারের ফাইনালের দুই দল কোনও অংশে কম নয়। অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের নিয়ে এবার চতুর্থ শিরোপা জিততে মুখিয়ে ঢাকা। সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল, কিয়েরন পোলার্ডের মতো বিশ্ব মাতানো ক্রিকেটারের সঙ্গে আছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। অলরাউন্ডার হিসেবে শুভাগত হোমও আলো ছড়াচ্ছেন।

২০১২, ২০১৩ ও ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ঢাকার সঙ্গে টেক্কা দিতে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই কুমিল্লা। মাঠের পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিকতার বিচারে অনেকখানি এগিয়ে তারা। দলে আছে দারুণ ভারসাম্য। রিজার্ভ বেঞ্চের মজুদও বেশ ভালো। তাতে প্রতিপক্ষ অনুযায়ী একাদশ সাজানোর সুবিধাটাও পান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আগের ম্যাচে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ছিলেন সানজিৎ সাহা ও মেহেদী হাসান, ফাইনালে তারা রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ব্যাটিংয়ে এভিন লুইসের সঙ্গে তামিম ইকবাল, এনামুল হক ও থিসারা পেরেরাও আছেন ছন্দে।

A13T7569তবে লড়াইটা যখন অলরাউন্ডারদের, তখন কুমিল্লাকে কোনও অংশে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, থিসারা পেরেরা ও শহীদ আফ্রিদির মতো অলরাউন্ডাররা দলের জয়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন।

এই বিপিএলে ঢাকার বিপক্ষে দুই জয়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন ইমরুল কায়েস। ঢাকার অলরাউন্ডারদের বিপক্ষে নিজের দলকে এগিয়ে রাখছেন কুমিল্লা অধিনায়ক, ‘আমরা তাদের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছি। আর দুই ম্যাচেই কিন্তু চার অলরাউন্ডারই খেলায় তারা, হেরেও গেছে দুটিই। সুতরাং আমরা অতিরিক্ত কোনও পরিকল্পনা বা চিন্তা করছি না। মাঠে গেলে পরিস্থিতি কী হয়, সেটাই বলে দিবে কীভাবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঠিকমতো খেলতে পারলে ইনশাল্লাহ ভালো ফল আসার সম্ভাবনা আছে।’

ম্যাচের আগের দিন একটু কৌশলী ছিল ঢাকা। কুমিল্লা অনুশীলন করলেও সাকিবরা ছিলেন হোটেলবন্দি। তাদের রণপরিকল্পনা যেন প্রতিপক্ষ জানতে না পারে, হয়তো সেই কারণে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চাননি তারা। কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও অধিনায়ক সাকিব দূরে থাক, দলের কেউ ঘেষেননি মিরপুর স্টেডিয়ামে। তাই ফাইনাল নিয়ে ঢাকার কারও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বুধবার রংপুরকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর ঢাকার খেলোয়াড় রুবেল হোসেনের কাছ থেকে মিলেছিল ভালো খেলার আশ্বাস, ‘কুমিল্লা দলটাও অনেক শক্তিশালী। ওদের ব্যাটিং লাইনআপ খুব বড়। আমার কাছে মনে হয় ম্যাচটা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। মাঠে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। তবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে মুখিয়ে আছি।’

এদিকে নির্ভার থেকে ফাইনাল খেলার ওপর জোর দিচ্ছেন কুমিল্লা কোচ সালাহউদ্দিন, ‘ফাইনালে স্নায়ুচাপ ধরে রাখা সবসময় কঠিন। তবে আমার বিশ্বাস ছেলেরা চাপ নেবে না। ঢাকা সবসময় ফাইনাল খেলে। আমাদের এমন সুযোগ বেশি আসেনি। ফাইনালের মতো ম্যাচে চাপ নিয়ন্ত্রণ করে যারা খেলতে পারবে তারাই বেশি সুবিধা নিতে পারবে। আশা করি আমরা দল হিসেবে সেরাটা খেলতে পারব।’

বিপিএলের পঞ্চম আসরের দ্বৈরথ ছিল দেশি বনাম বিদেশি কোচের। এবার দুই কোচই দেশি। কে কাকে হারায় এটাও দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। এর পাশাপাশি এই লড়াইটা সাকিব-তামিমেরও। মাশরাফি-সাকিব শিরোপা জিতলেও সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিত বাঁহাতি ওপেনার। এবার দেখার অপেক্ষা সাকিবই পুরানো সেই স্বাদ পান নাকি তামিম কাটাবেন শিরোপা খরা!

/আরআই/এফএইচএম/

x