তামিমের ইনিংসের কাছেই হেরেছি: সাকিব

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০১:০৫ , ফেব্রুয়ারি ০৯ , ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান। ছবি- রবিউল ইসলাম।সাকিব আল হাসানের দুর্ভাগ্য, বিপিএলের সর্বশেষ দুটি ফাইনালে হেরেছেন স্রেফ ব্যক্তি পারফরম্যান্সের কাছে! আগের বার রংপুরের ক্রিস গেইলের ১৪৬ রানের কাছে হেরেছিলেন। এবার তামিম ইকবালের ১৪১ রানের কাছে হেরে হাতছাড়া হলো শিরোপা। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে সাকিব অকপটে স্বীকার করে নিলেন সেই কথা।

টানা দুই আসরে ফাইনাল খেলেও বিপিএলের ট্রফি ছোঁয়া হয়নি সাকিবের। সংবাদ সম্মেলনে সেই আক্ষেপ দিয়েই কথা শুরু করেন তিনি, ‘অবশ্যই হতাশার। ফাইনালে এসে হেরে যাওয়া কষ্টকর। শেষ তিনটা ফাইনাল পর পর খেললাম। প্রথমটা জিতেছি, শেষের দুইটা হেরেছি। তবে এমন কারো (তামিম) ইনিংস থাকলে কিছুই করার থাকে না। গতবার গেইলের ১৪৬ রান, এবার তামিমের ১৪১ রানের কাছে হারলাম।’

তামিমের প্রশংসা করে সাকিব বলেন, ‘তামিমতো অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছে। দুইটা বিপিএলে গেইল ও তামিমের ইনিংস আমাদের হারের সবচেয়ে বড় কারণ। পরের বার ফাইনাল খেললে চেষ্টা করতে হবে কেউ যেন এমন ইনিংস খেলতে না পারে।’

২০০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা ঢাকার হয়ে দ্বিতীয় উইকেটে রনি তালুকদার ও উপুল থারাঙ্গা ১০১ রানের জুটি গড়েন। থারাঙ্গা ফিরে যাওয়ার পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্বটা পড়ে সাকিবের ওপর। কিন্তু সাকিব ৩ রানের বেশি করতে পারেনি। এটাই কী আসলে ম্যাচের টার্নিং পয়েণ্ট? সাকিব উত্তরে বললেন, ‘বেশ কয়েকটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ওরা ১৯৯ রান করার পরও আমি জিততে আত্মবিশ্বসী ছিলাম। শুরুটা আমরা পেয়েছিলাম। ১১ ওভারে আমাদের ১০২ রান ছিল ১ উইকেটে। বাকি ৮০ রান ৯ ওভারে ৯ উইকেট নিয়ে বেশিরভাগ দিনই জেতা সম্ভব। আমরা মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলি থারাঙ্গাকে হারিয়ে। এরপর আমার আউট, রনির রান আউট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ সেই সঙ্গে নিজেদের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন তিনি, ‘আজকের ম্যাচে আমি, পোলার্ড, রাসেল, নারিন মিলে ২০ রানও করতে পারিনি। আমরা হেরেছি হয়তো ১৭ রানে। আমাদের ওপরই যেহেতু দলটা অনেক নির্ভর করে। সেইদিক থেকে আমরা ব্যর্থ।’

টুর্নামেন্টে শুরুটা আহামরি ছিলো না ঢাকার। এরপরেও সাকিবরা ফাইনালে পৌঁছে শিরোপা জিততে না পারায় আক্ষেপ করলেন ম্যাচের পর, ‘আমরা যে ধরনের দল, পুরো টুর্নোমেন্টে সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। তারপরও আমরা ফাইনালে পৌঁছেছি। আমার কাছে মনে হয়েছিল, ফাইনালের জন্য আমরা সেরাটা রেখে দিয়েছি। শুরুটাও ওই ভাবেই হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শেষ করতে পারিনি।’

পুরো বিপিএলে বল হাতে অসাধারণ কাটিয়েছেন সাকিব। এই আসরে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট তুলে নিয়ে কেভন কুপারের ২০১৫ সালের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে এসেছে ৩০১ রান। সবমিলিয়ে বোলিংয়ে খুশি হলেও ব্যাটিংয়ে কিছুটা হতাশ তিনি, ‘খুশি। হয়তো আরও একটু ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ভালো লাগতো। ব্যাটিংয়ে আরও বেশি কিছু রান করা উচিত ছিল। আর বোলিংয়ে স্কিল লেভেলটাতে আরও উন্নতি করার জায়গা আছে।’

বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টসহ জাতীয় দলের হয়ে ১২টি ফাইনাল খেলেছেন সাকিব। এর মধ্যে বেশ কিছু ফাইনালে হারতে হয়েছে। ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সাকিব জানালেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে অর্জনটা বড় মনে হতো। ফাইনাল খেলতে পারাও একটা অর্জন। এমন টুর্নামেন্ট কিংবা সিরিজে শেষ পর্যন্ত যাওয়া অবশ্যই একটা বড় অর্জন। অবশ্য এটা ভালো একটা অভিজ্ঞতা।’

/আরআই/এফআইআর/

x