নিউজিল্যান্ডে ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙবে বাংলাদেশের?

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২৩:০৫ , ফেব্রুয়ারি ১২ , ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে যে কোনও দলকেই বসতে হয় কঠিন পরীক্ষায়, বাংলাদেশের জন্য যা আরও দুর্গমগিরি। পরিসংখ্যানে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়, ২০০১ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে খেলা ২১ ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে বাংলাদেশ! ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে আরেকবার কিউইদের মাঠে নামতে যাচ্ছে টাইগাররা। নেপিয়ারের প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হচ্ছে যে মিশন।

বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে চ্যানেল নাইনের পর্দায়। স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাশরাফিরা খেলবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

নিউজিল্যান্ডের সবশেষ সফরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কিছুটা লড়াই করলেও হারের বৃত্ত ভাঙা যায়নি। এবারের সফরে দুই বছর আগের সিরিজের স্মৃতি ভুলে যেতে চাইলেও চোট পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। সেবার চোটের মিছিলে সফরের শেষ দিকে ভীষণ ভুগেছিল টাইগাররা। আর এবার চোটের ধাক্কা শুরু হয়ে গেছে সিরিজ শুরুর আগেই।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে সাকিব আল হাসান ছিটকে যাওয়ায়। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়া কঠিন পরীক্ষায় মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য এশিয়া কাপের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের হাওয়া ছড়িয়ে দিচ্ছেন দলের মধ্যে।

অধিনায়কের কথা আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে প্রধান কোচ স্টিভ রোডসকে। নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাঠে গিয়ে হারানো কঠিন, সেটা মানলেও ইংলিশ কোচ অসম্ভব মনে করছেন না। বাংলাদেশের কোচের বক্তব্য, ‘বাইরের সফরগুলো সবসময়ই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। কঠিন হলেও অসম্ভব তো নয়। হয়তো আমাদের আদর্শ প্রস্তুতি হয়নি, তবে এটা মেনে নিয়েই আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে।’

অন্য সব ফরম্যাটের চেয়ে ওয়ানডেতে অনেকটাই এগিয়ে বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের ম্যাচে নিজেদের দিনে যে কোনও দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে মাশরাফিরা। গত জুন-জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এসেছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ওই সাফল্য নিউজিল্যান্ড সফরেও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে সফরকারীদের।

যদিও কাজটা ভীষণ কঠিন। পরিসংখ্যান বলছে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১০ ওয়ানডের একটিও জেতেনি বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৩২বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, যেখানে কিউইদের ২১ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জয় ১০টিতে। পরিত্যাক্ত হয়েছে এক ম্যাচ।

একটি পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে- নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ দুই ওয়ানডে জয়। ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে ও একই বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারলেই তো হয়!

তাছাড়া ঘরের মাঠে ভারতের কাছে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড কিছুটা কোনঠাসা অবস্থায় আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সতর্ক কিউইরা। মঙ্গলবার ম্যাকলিন পার্কে দলের অনুশীলনের ফাঁকে বাংলাদেশকে ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে দলটির অলরাউন্ডার টড অ্যাস্টল বলেছেন, ‘আমি সবসময়ই মনে করি তারা বিপজ্জনক দল। তারা নিশ্চিতভাবেই ভালো রান করতে পারে। এছাড়া তাদের স্পিনের বিপক্ষে আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।’

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে হারলেও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে নিউজিল্যান্ড। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিততে মুখিয়ে এই অলরাউন্ডার, ‘ছেলেরা মাঠে নামতে মুখিয়ে আছে। (ভারতের বিপক্ষে) দারুণ একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর আমরা এখন ভালো অবস্থায় আছি। আশা করি টি-টোয়েন্টির জয়ের ধারা ওয়ানডেতেও টেনে নিতে পারব।’

/আরআই/কেআর/

x