‘প্রথমে গুলির শব্দ, তারপর রক্তের বন্যা’

স্পোর্টস ডেস্ক ১৭:৩৮ , মার্চ ১৫ , ২০১৯

53786352_2210735402508559_1711197910839853056_nমসজিদে নামাজ পড়ে অনুশীলন মাঠে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভালের মসজিদের ভেতর ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন তারা। ওই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা পিটিআইকে টেলিফোনে জানান দলের পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরন।

ঘটনাস্থল থেকে ৫০ গজ দূরে ছিল বাংলাদেশের টিম বাস। সেখান থেকেই প্রথমে বন্দুকের গুলির শব্দ শুনতে পান খেলোয়াড়রা। কয়েক মুহূর্ত পর তারা একজন নারীকে তাদের সামনে পড়ে যেতে দেখেন। কয়েকজন খেলোয়াড় তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই দেখতে পান কয়েকজন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মসজিদ থেকে বের হচ্ছেন, কেউ কেউ ছিলেন রক্তাক্ত।

টিম হোটেল থেকে ফোনে পিটিআইকে ওই মুহূর্তের অনুভূতির কথা জানান শ্রীনিবাস, ‘আমরা প্রথমে তেমন কিছু বুঝতে পারিনি। এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে ভয়ের সঙ্গে আপনার মস্তিষ্ক কোনও কাজ করে না। আমাদের সবার ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটাই হয়েছিল।’

মুম্বাইয়ের সফটওয়্যার প্রকৌশলী শ্রীনিবাস শুরুতে বুঝতেই পারেননি যে এটা সন্ত্রাসী হামলা, ‘মসজিদ থেকে কয়েক মিটার দূরে ছিলাম আমরা এবং হঠাৎ করে বন্দুকের গুলির আওয়াজ শুনতে পেলাম। খেলোয়াড়রা তো বটেই, আমিও বুঝতে পারিনি আসলে কী ঘটছিল। হঠাৎ দেখলাম একজন নারী রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো। আমরা ভেবেছি হয়তো সে অসুস্থ। ছেলেদের কয়েকজন বাস থেকে নেমে তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিল।’

খানিকক্ষণ পরই ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারে ক্রিকেটাররা। শ্রীনিবাস বলেছেন, ‘আমরা কয়েক মুহূর্ত পর বুঝতে পারলাম যা ভাবছি তার চেয়েও বড় ঘটনা ঘটে গেছে। জীবন বাঁচাতে কয়েকজনকে দৌড়াতে দেখছিলাম এবং সব জায়গা ছিল রক্তে ভেজা। আচমকা আমাদের সবাইকে বাসের মেঝেতে শুয়ে পড়তে বলা হলো। আমি জানি না কতক্ষণ আমরা ওভাবে শুয়ে ছিলাম।’

ঘটনার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ আসে এবং টিম বাসের পেছনের দরজা দিয়ে খেলোয়াড়রা বের হন। হ্যাগলি পার্ক দিয়ে পৌঁছান মাঠে। শ্রীনিবাস আরও বলেছেন, ‘আমরা খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরা এ ঘটনায় হতভম্ভ হয়ে পড়েছিলাম। আমরা কেউই বুঝতে পারছিলাম না কী করা দরকার।’

এখন খেলোয়াড় ও স্টাফদের মনে একটাই চিন্তা কখন দেশে ফিরবেন তারা। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের তৎপরতার প্রশংসা করে শ্রীনিবাস বলেছেন, ‘আমরা সবাই দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি। খেলোয়াড়রা বাংলাদেশে ফিরে যাবে, আমিও ভারতে ফেরার টিকিটের অপেক্ষা করছি।’

/এফএইচএম/

x