আবাহনীর জয়, মোহামেডানের হার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:৫৭ , এপ্রিল ১৫ , ২০১৯

মিরাজের উইকেটে মাশরাফির অভিনন্দন। সোমবার আবাহনীর জয়ের আগমহূর্তেঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) সুপার লিগে দুর্দান্ত শুরু হয়েছে আবাহনীর। সোমবার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিং তোপে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা বড় ব্যবধানে হরিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বরকে। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান অবশ্য হেরে গেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে। আর নাসির হোসেনের সেঞ্চুরিতে প্রাইম ব্যাংককে হারিয়েছে শেখ জামাল।

আবাহনী-দোলেশ্বর

সাইফউদ্দিনের পেস আগুনের পুড়ে খাক প্রাইম দোলেশ্বর। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৬ ওভারে মাত্র ৯ রান দিযে এই পেসারের শিকার ৫ উইকেট। তাতে ২৯.৪ ওভারে মাত্র ৮৬ রানে দোলেশ্বর অলআউট হলে আগে ব্যাট করে ৪৯ ওভারে ২৫১ রানে গুটিয়ে যাওয়া আবাহনী ম্যাচটি জিতেছে ১৬৫ রানে।

মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে কঠিন চাপে পড়ে আবাহনী। মাত্র ১২ রানে তারা হারায় টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান- জহুরুল ইসলাম (১), মেহেদী হাসান মিরাজ (৫) ও সৌম্য সরকারকে (২)। শুরুর ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে আবাহনী ওয়াসিম জাফর (৭১) ও নাজমুল হোসেন শান্তর (৭০) হাফসেঞ্চুরিতে। মোহাম্মদ মিঠুন ৪১ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা ২৪ রানের ইনিংস খেললে আড়াই শ ছাড়ায় আবাহনীর স্কোর।

দোলেশ্বর পেসার আবু জায়েদ ৪৭ রানে নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন ফরহাদ রেজা ও সাইফ হাসান।

২৫২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা সাইফউদ্দিনের পেসের সামনে এলোমেলো দোলেশ্বর। ৮৬ রানে অলআউট হওয়ার আগে দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল চার ব্যাটসম্যান, যেখানে সর্বোচ্চ ২৭* রান মাহমুদুল হাসানের।

মোহামেডান-রূপগঞ্জ

শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত করেছিল মোহামেডান। তবে দ্বিতীয় পর্বে জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারলো না তারা। রূপগঞ্জের বিপক্ষে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি হেরে গেছে ৪৬ রানে।

বিকেএসপিতে নাঈম ইসলামের হার না মানা সেঞ্চুরিতে রূপগঞ্জ নির্ধারিত ৫০ ওভঅরে ৪ উইকেটে করে ৩১৩ রান। কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪৬.২ ওভারে মোহামেডান অলআউট ২৬৭ রানে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না রূপগঞ্জের। ৬৩ রান তুলতে হারায় দুই ওপেনার মেহেদী মারুফ (১৪) ও মোহাম্মদ নাঈমকে (২৬)। এরপর মুমিনুল হক ও নাঈম ইসলাম গড়েন বড় সংগ্রহের ভিত। ‍মুমিনুল (৭৮) সেঞ্চুরি মিস করলেও নাঈম ইসলাম ভুল করেননি। রূপগঞ্জ অধিনায়ক ১০৮ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় খেলেন ১০৮* রানের ইনিংস। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শাহরিয়ার নাফীসও ৬১ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে।

রূপগঞ্জ ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে মোহামেডানের সবচেয়ে সফল বোলার মোহাম্মদ আশরাফুল। বোলার হয়ে ওঠা এই স্পিনার ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট।

৩২৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইরফান শুক্কুর (৭৩) ও রকিবুল হাসানের (৫৮) হাফসেঞ্চুরিতেও হার এড়াতে পারেনি মোহামেডান। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। আর আশরাফুল করেন মাত্র ১১ রান।

মোহামেডানকে অলআউট করার পথে শুভাশিষ রায় ৫৬ রান খরচায় পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট শিকার মোহাম্মদ শহীদ ও মুক্তার আলীর।

প্রাইম ব্যাংক-শেখ জামাল

ফতুল্লায় প্রাইম ব্যাংককে ৬ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল। প্রাইম ব্যাংক ৪৮.৩ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে করে ২৩৬ রান। জবাবে নাসিরের হার না মানা ১১২ রানে ভর দিয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে শেখ জামাল।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংক শুরুতেই হারায় ওপেনার এনামুল হককে (০)। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে তারা রুবেল মিয়া (৬৬) ও নামান ওঝার (৪৬) ব্যাটে। তবে মিডল অর্ডারে ধসে আবার এলোমেলো প্রাইম ব্যাংক, এরপরও তাদের রান অতদূর যাওয়ার পেছনে সব কৃতিত্ব পাবেন আরিফুল হক। এই অলরাউন্ডার লোয়ার অর্ডারে ৫১ বলে ২ চার ও ৭ ছক্কায় খেলেন ঝড়ো ৭৪ রানের ইনিংস।

প্রাইম ব্যাংকের মিডল অর্ডারে চিড় ধরানো স্পিনার ইলিয়াস সানি ৩৫ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। তানভীর হায়দারের শিকারও ৩ উইকেট।

২৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নাসির হোসেনের হার না মানা ১১২ রানে ভর দিয়ে জয় নিশ্চিত করে শেখ জামাল। চার নম্বরে নেমে ১১০ বলে ১২ চার ও ৩ ছক্কায় নাসির সাজান তার ইনিংসটি। এরপরও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ওপেনিংয়ে ৬৭ রানের ইনিংস খেলা ইলিয়াস সানি।

/কেআর/

x