অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এই দল: নান্নু

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৬:১২ , এপ্রিল ১৬ , ২০১৯

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। প্রত্যাশা অনুযায়ী বিশ্বকাপ দল গঠন করেছেন নির্বাচকরা। সবশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলা দলটি থেকে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি এই দলে। অভিজ্ঞদের বিবেচনায় রেখে দল সাজিয়েছে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর নির্বাচক প্যানেল।

যদিও অনভিজ্ঞ রাহীর সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে খেলার অভিজ্ঞতা আছে  ডানহাতি এই পেসারের। প্রধান নির্বাচক নান্নু দল গঠন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তারা এই দল সাজিয়েছেন।

১৫ জনের বাংলাদেশ দলে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে আট জনের। এদের মাঝে কয়েকজনের একাধিক বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। মোস্তাফিজ, মিরাজ, লিটন, মিঠুনদের মতো যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন তাদের অভিজ্ঞতাও কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই আগামী ৩০ এপ্রিল তারা দেশ ছাড়বেন।

দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন, ‘যেহেতু ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপটি হচ্ছে সুতরাং অভিজ্ঞতাকে বেশি মূল্যায়ন করেছি। আর ওখানকার কন্ডিশন উপমহাদেশ থেকে ভিন্ন। আমরা কিন্তু এক বছর আগেও ওখানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলেছি। সেই কথা চিন্তা করে অভিজ্ঞ দল সাজানো হয়েছে।'

১৫ জনের এই দলটা কেমন হলো? এ নিয়ে বাইরে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে এই দল গঠন করতে পেরে দারুণ খুশি নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচকের কথাতেই তা স্পষ্ট, ‘আমরা দল নিয়ে সন্তুষ্ট। কারণ অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করে এই দল গঠন করা হয়েছে। সে হিসেবে মনে করি এই অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারবো।’

দল গঠনের সঙ্গে একটি লক্ষ্যও যে তারা ঠিক করে রেখেছেন সেই বিষয়টিও জানিয়ে দিতে ভুললেন না নান্নু, ‘ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আমরা একটি ভালো ফলাফল করেছিলাম। এবারও একটি লক্ষ্য আছে, এক থেকে চারের মধ্যে থাকার। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভালো করবো।’

বিশ্বকাপের দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা থাকলেও ফর্ম নেই অনেকের। তাদের মধ্যে সৌম্য ও লিটন অন্যতম। ফর্মহীনতার পরেও তাদের কী বিবেচনায় দলে নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘ফর্ম নিয়ে তো আমরা অবশ্যই চিন্তায় আছি। তবে বিশ্বকাপের আগে এখনও তিন মাস সময় আছে। মাঝে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও আছে। সুতরাং টিম ম্যানেজমেন্ট কোচের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। একটি সুযোগ যেহেতু সামনে আছে। ওদের রানে ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

প্রতিটি দেশ দল ঘোষণা করলেও আগামী ২৩ মে পর্যন্ত দলে পরিবর্তন আনা যাবে। ৫ মে আয়ারল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের (তৃতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ) পারফরম্যান্স কিংবা চোটে নতুন কেউ লন্ডনের বিমান ধরলে অবাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটবে না। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন সেই ইঙ্গিতই দিলেন, ‘আমরা একটি লম্বা সফরে যাচ্ছি। সুতরাং এখানে ইনজুরি সমস্যা হতে পারে। আবার কেউ যদি মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়, লম্বা সফরে এমন হতে পারে। শারীরিকভাবে আনফিট হতে পারে। এছাড়া আয়ারল্যান্ড সফরের পারফরম্যান্সও ধরা হবে। এসব কিছু চিন্তা ভাবনা করে আমাদের এগোতে হবে। যেহেতু ২২ মে’র আগে একটা  সুযোগ আছে। সেই হিসেবে এখনই নিশ্চিত থাকা যাবে না এটাই চূড়ান্ত দল।’

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ ও আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত দলের বাইরেও কিছু ক্রিকেটারদের প্রস্তুত রাখবেন বলে জানালেন প্রধান নির্বাচক, ‘১৭ জনের বাইরে এখানে যারা আছে তাদেরকেও আমরা একটি প্রস্তুতির মধ্যে রাখবো। হুট করে যে কাউকে দরকার হতে পারে। মানসিকভাবে সেভাবে তৈরি করে রাখতে হবে, যেন দ্রুতই বদলি করা যায়।’

/আরআই/এফআইআর/

x