এএফসি কাপের নকআউটে শক্ত প্রতিপক্ষের সামনে আবাহনী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১১:০১ , আগস্ট ২১ , ২০১৯

করমর্দন করছেন দুই দলের অধিনায়ক সঙ্গে দুই দলের কোচএএফসি কাপের নক আউট পর্বে শক্ত প্রতিপক্ষের সামনে আবাহনী লিমিটেড। আজ বুধবার ইন্টার জোন সেমিফাইনাল প্লে-অফের প্রথম লেগে তাদের বাধা উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ। এই ম্যাচটি জিততে পারলে ইতিহাস গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে আকাশি-হলুদ জার্সিধারিরা। তাই পুরো দলই চাইছে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দুদলের লড়াই শুরু হবে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটায়।

আগের তিনবারের রেকর্ড অবশ্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না আবাহনীর। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল বার বার। এবার সেই ধারায় ছেদ এনে বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে ইন্টার-জোন প্লে-অফ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আবাহনী। ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নাম লিখিয়েছে নক আউট পর্বে।

এএফসি কাপের গ্রুপে এবার নিজেদের মাঠে আবাহনী কোনও ম্যাচ হারেনি। সেমিফাইনালের প্রথম লেগেও সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাইছে তারা। দলের অধিনায়ক শহীদুল আলম সোহেল তেমন কথাই বললেন, ‘এই ম্যাচের জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি, প্রস্তুতিও ভালো। সবার জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। যে করেই হোক আমরা ম্যাচ জিততে চাই।’

এএফসি কাপের শুরু থেকে আবাহনীকে সেরা একাদশ বেছে নিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। খেলোয়াড়দের ইনজুরির সঙ্গে ছিল ভিসা জটিলতায় তাদের না পাওয়া। নক আউট পর্বে এসে সঙ্গী হয়েছে দল বদল। নক আউট পর্বে উঠার পিছনে আফগানিস্তানের ডিফেন্ডার মাসিহ সাইগানির অবদান অনেক। তিন গোল তার ঝুলিতে। কিন্তু নতুন মৌসুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের দল চেন্নাইয়ান এফসিতে যোগ দিয়েছেন সাইগানি।

এছাড়া ইনজুরি ও কার্ড সমস্যার কারণে আজ চার খেলোয়াড়কে ছাড়া মাঠে নামতে হচ্ছে আবাহনীকে। যার জন্য একাদশ সাজাতে কিছুটা গলদঘর্ম হতে হচ্ছে কোচ মারিও লেমসকে। এছাড়া প্রতিপক্ষের শক্তি দেখে ডিফেন্স জমাট রাখতে চাইছেন পর্তুগিজ এই কোচ। সেক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পজিশন বদলও হতে পারে! লম্বা থ্রো করে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়া রায়হান হাসান তো বলেই দিয়েছেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলতে হবে যেন প্রত্যাশা পূরণ হয়। চার জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নেই। তাদের জায়গায় যারা খেলবেন তাদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। মনোবল হারালে চলবে না। ফুটবলপ্রেমীরা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

আবাহনীর সম্ভাব্য ৫-৪-১ ফর্মেশনে স্বাভাবিকভাবে স্ট্রাইকার হিসেবে থাকছেন নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা। প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে সুযোগ পেলেই গোল করতে চান এই স্ট্রাইকার, ‘দলকে জেতাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো’।

উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের আগে মোহামেডোনের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ৮০ এর দশকের শেষের দিকে এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে সাদা-কালোরা একটি ম্যাচ জিতেছিল। অন্যটিতে হয়েছিল ড্র। সেই ম্যাচ দুটি থেকে অবশ্য অনুপ্রেরণা নিতে পারে আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা।

অপর দিকে এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ টানা তিন বছর ধরে এএফসি কাপ খেলছে। গতবার তো ইন্টার জোন ফাইনাল খেলেছিল। নিজেদের ঘরোয়া ফুটবলে অন্যতম সফল ক্লাবও তারা। লিগ জিতেছে ১৮ বার। দলে কোনও বিদেশি খেলোয়াড় নেই। স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়েই লড়াই করে যাচ্ছে।

দ্রুত গতির ফুটবলের সঙ্গে উইং নির্ভর খেলে এএফসি কাপে ‘আই’ গ্রুপের সেরা হয়েছে কোরিয়ান দলটি। সেমিফাইনালেও লক্ষ্য গোল করে এগিয়ে যাওয়া।

/টিএ/এফআইআর/

x