ফ্র্যাঞ্চাইজি রাখছে না বিসিবি, বঙ্গবন্ধুর নামে বিপিএল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৫:১৩ , সেপ্টেম্বর ১১ , ২০১৯


বিপিএল লোগোনতুনভাবে শুরু হচ্ছে আগামী বিপিএল। নতুন ধারার বিপিএলে কোনও মালিকানা থাকছে না। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে বিসিবি। নামকরণও করা হয়েছে এই টুর্নামেন্টের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এবারের আসরটি তার নামে করা হচ্ছে। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এ তথ্য জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

বিসিবি সভাপতি বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হবে এবারের বিপিএল। আসরের আনুষ্ঠানিক নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল।” বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানানোকে বড় কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও নিজেদের সব দল পরিচালনা করার বিস্ময়কর এই সিদ্ধান্তের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ‘সাংঘর্ষিক দাবি’ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

তিনি বলেছেন, ‘এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নতুন চুক্তি হওয়ার কথা। তাদের আমার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে, সব কিছু থেকে আমি বলতে পারি, কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশ কিছু দাবি-দাওয়া আছে। ওই দাবিগুলো বিপিএলের মডেলের সঙ্গে পুরোপুরিই সাংঘর্ষিক। এটা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘তারা বলেছে, এক বছরে দুটো বিপিএল (এ বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে একটি) তাদের জন্য চাপ হয়ে যায়, অবশ্য খেলবে না, সেটা বলেনি। তাই সবকিছু বিবেচনা করে চিন্তা করেছি, বিপিএল আমরাই চালাব। কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকছে না।’

সামনের বিপিএল আয়োজন নিয়ে শঙ্কার মেঘ জন্মে টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মতানৈক্যে। শুরুটা হয়েছিল সাকিব আল হাসানের রংপুর রাইডার্সে যোগ দেওয়া নিয়ে। ঢাকা ডায়নামাইটস ছেড়ে তিনি নাম লেখান রংপুরে। তখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল জানিয়েছিল, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চুক্তি নবায়ন না করার আগে কোনও খেলোয়াড়কে দলে ভিড়ানোর সুযোগ নেই। এরপর তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও বসেছিল বিসিবি। যদিও বুধবার ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদ দিয়ে বিপিএল আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন নাজমুল।

বিসিবির এই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মানতে পারছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বিসিবি’র নতুন নিয়মে বিপিএল পরিচালনার সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সিদ্দিক। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’কে তিনি বলেছেন, ‘এখন বিসিবি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মতো করে বিপিএল আয়োজন করতে চাইছে। এটা হাস্যকর ছাড়া কিছু নয়। এটা বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় রসিকতা। তাদের চালিয়ে নিতে দিন। বিদেশ থেকে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে খেলোয়াড় নিয়ে আসি। দেখা যাক বিসিবি কী করে।’

রাজশাহী কিংসের প্রধান নির্বাহী তাহমিদ আজিজুল হকও অবাক, ‘এই সিদ্ধান্ত তারা (বিসিবি) নিতেই পারে। তাদের সঙ্গে তো আর আমাদের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। অবশ্য বিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানায়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনায় আমরা আমাদের যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেছিলাম। তবে তারা এমন সিদ্ধান্ত নেবে, জানতাম না।’

রাজশাহী কিংসের মতো সিলেট সিক্সার্সের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির ওবায়েদও শুনিয়েছেন একই কথা। যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিসিবি, তাই স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি তিনি। শুধু বলেছেন, ‘তারা আমাদের কিছু জানালে আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে পারতাম। প্রথমত, বিসিবির সঙ্গে আমাদের চুক্তি নেই, এর ওপর টুর্নামেন্টটা তাদের, তাই তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে ভেবেছিলাম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে বিসিবি।’

বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রায় সবারই নতুন চুক্তির আগে দাবি ছিল, টুর্নামেন্টের লভ্যাংশ বন্টন। তবে তাদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব নয় বলে স্পষ্টই জানিয়েছেন নাজমুল, ‘রেভিনিউ ভাগ করা সম্ভব নয়। (ফ্র্যাঞ্চাইজি) আমাদের ৮০ কোটি টাকা দিক, আমরা ৪০ কোটি টাকা দিয়ে দেবো। ৮ কোটি টাকা করে নেওয়া হতো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে (ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি), আমরা ১ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছি। ৭ কোটি ছেড়েই দিয়েছি, মাত্র এক কোটি নিচ্ছি। আবার কী চায়?’

সঙ্গে এটাও বলে রাখলেন, ‘একটা জিনিস মনে রাখবেন, আমরা কী চাই। আমরা চাই যারা বিপিএলে আসবে, তারা বিপিএলে খেলার উন্নয়ন, খেলোয়াড়ের উন্নয়নের জন্য আসবে। ব্যবসা করার জন্য নয়।  এখানে সেই সুযোগ নেই।’

তাহলে তো বিপিএলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার? বিসিবি প্রধান তা মানছেন না, ‘অন্ধকার কেন? আমরা চালাব। বিসিবি চালাতে পারবে না? শুনেন লস যদি হয় তাহলে ৮০ লাখ টাকার খেলোয়াড়কে ৪ কোটি টাকা দিয়ে কেউ নিতো না। লস হলে তো কেউ এত টাকা নেয় না। নিশ্চিত অনেক লাভ করে, আরও লাভ করতে চায়।’

সব দলের খরচ বহন করবে বিসিবি। ক্রিকেটারদের থাকা-খাওয়া, আর্থিক বিষয়, যাতায়াত ব্যবস্থা— সব খরচ বিসিবির। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশের আদলে হতে যাচ্ছে সামনের বিপিএল। বিসিবির ব্যবস্থাপনায় সব পরিচালনা করা হলেও নাজমুল জানিয়েছেন, দলগুলোর জন্য স্পন্সর নিতে তাদের আপত্তি নেই।

আগের চক্র শেষ হওয়ার পর নতুন চক্র শুরুর আগে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বসেছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সেই বৈঠকে ভারতের আইপিএলের মতো বিপিএলের বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লাভের অংশ চেয়েছিল। এই কারণেই বিসিবি সকল খরচ নিজেরা বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেন ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে না হয় এবং তাদের লভ্যাংশ আশা করার সুযোগও তৈরি না হয়।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী এবারের বিপিএলের উদ্বোধন হবে ৩ ডিসেম্বর, খেলা শুরু ৬ ডিসেম্বর থেকে।

/আরআই/এফআইআর/কেআর/

x