কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশের ‘অগ্নিপরীক্ষা’

তানজীম আহমেদ ১২:২০ , অক্টোবর ১০ , ২০১৯

Bangladesh 1নিজেদের মাঠ, ভুটানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জয়ের স্বাদ- বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতেই আছে। তারপরও কাতারকে ফেভারিট বলা যায় নিঃসন্দেহে। সব দিক থেকে দুই দলের ফারাক যে অনেক! তারপরও ‘আকাশসম’ প্রতিপক্ষকে হারানোর লুকানো স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে জামাল ভূঁইয়াদের মনে। ‘বিস্ময়কর’ ফলের প্রত্যাশা নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে বিটিভি ও বাংলা টিভি।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় ধাপের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর ভুটানের বিপক্ষে দুই প্রীতি ম্যাচে ৪-১ ও ২-০ গোলে জিতেছে জেমি ডের দল। অন্যদিকে কাতার ৬-০ গোলে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার পর গোলশূন্য ড্র করেছে ভারতের বিপক্ষে। ১০৪ নম্বর র‌্যাংকিংধারী ভারতের কাছে হোঁচট খেয়ে বিশ্বকাপের আয়োজকরা এবার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশের, যারা র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে ১২৫ ধাপ। র‌্যাংকিংয়ে ৬২তম এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার, আর বাংলাদেশ ১৮৭ নম্বরে।

কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবল লড়াই খুব বেশি হয়নি। চার ম্যাচে তাদের সাফল্য একটি ড্র, বাকি তিনটি হেরেছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে প্রথমবার দুদল মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৭৯ সালের এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচটি হয় ১-১ গোলে ড্র। পরের তিনটি ম্যাচেই লাল-সবুজ দলকে হারতে হয়েছে। এবার তো শক্তিমত্তায় আরও অনেক এগিয়ে কাতার।

সময়ের পরিক্রমায় কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক। নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যার প্রমাণ দিয়েছে এই বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনও সাফেই ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সম্প্রতি ইংলিশ কোচ জেমির অধীনে একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে জামাল-সুফিলরা। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, অন্তত ৯০ মিনিট লড়াই করার মতো স্ট্রেন্থ-স্ট্যামিনা আছে দলটির!

যে কারণে অধিনায়ক জামালের কণ্ঠে হুঁশিয়ারি, ‘কাতার এশিয়ার এক নম্বর দল। তাই বলে বলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচে যে কোনও কিছু সম্ভব। এই ক্ষেত্রে আমাদের কোনও ভুল করলে চলবে না। যে সুযোগ আসবে, সেটা কাজে লাগাতে হবে। কারণ এমন ম্যাচে সুযোগ কমই আসে।’

Bangladesh 2গত বছর এশিয়াডে কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছিল জামালের গোলে। যদিও ম্যাচটি ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ এর। এবার সিনিয়র দলের লড়াই। এবারও জামাল গোল উদযাপন করতে চান, ‘লক্ষ্যে শট নেওয়ার সুযোগ এলে আমি অবশ্যই নিবো। যেন দল গোলের দেখা পায়, সেই চেষ্টা থাকবে সবসময়। শুধু আমি একা নই, সবার মধ্যে সেই ইচ্ছা থাকতে হবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েও আমরা গোল করতে পারিনি। এই ম্যাচেও সেটা হোক, চাই না আমরা।’

এই ম্যাচে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা মানছে ভারতকে। কাতারের বিপক্ষে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা। দোহায় সফরকারীদের গোলমুখে ২৯টি শট নিলেও লক্ষ্যভেদ হতে দেয়নি গুরপ্রীত সান্ধুর দল। জামাল বলেছেন, ‘যদি কাতারের সঙ্গে ভারত ড্র করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারবো না। আমরা শুধু ড্র নয়, জয়ের জন্য খেলতে নামবো। কাতার আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। আমরা খেলবো প্রতি আক্রমণনির্ভর।’

বাংলাদেশ দলটি তারুণ্যনির্ভর। তরুণদের উজ্জীবিত থাকতে বললেন জামাল, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের বলবো, নিজেদের মতো খেলো। ম্যাচটি উপভোগ করো। সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাও। তবে স্নায়ুচাপ যেন চেপে না বসে।’

বাংলাদেশ দলের জন্য বড় হুমকি কাতারের আলমোয়েজ আলী। গত এশিয়ান কাপে সর্বোচ্চ ৯ গোল করেছেন। এছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে করেছেন হ্যাটট্রিক। ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে ইয়াসিন-রায়হানদের হাতে। ভুটানের বিপক্ষে জোড়া গোল করা ডিফেন্ডার ইয়াসিন প্রস্তুত, ‘কাতার নিঃসন্দেহে বেশ শক্তিশালী দল। তবে আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত।’

অবশ্য নিজেদের বড় দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ কাতারের স্ট্রাইকার আলী হাসান, ‘এখানে বড় কিংবা ছোট দল বলতে কিছু নেই, প্রতিপক্ষকে সম্মান করছি। আমরা অবশ্য তিন পয়েন্টর জন্য এসেছি। ম্যাচটি সহজ হবে না।’

/এফএইচএম/

x