আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ভ্যাস গাইডলাইন

হিটলার এ. হালিম ১৪:৫৩ , আগস্ট ১২ , ২০১৭

বিটিআরসিগাইডলাইন ও লাইসেন্সের ব্যবস্থা না থাকায় মোবাইলফোনে বিভিন্ন ধরনের মূল্য সংযোজিত সেবা (রিংটোন, ওয়েলকাম টিউন, ওয়াল পেপার ইত্যাদি) তথা ভ্যাস গাইডলাইন আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। কেন, কী কারণে, কাদের বাঁধায় এতোদিন ভ্যাস গাইডলাইন করা হয়নি সেসব বিষয়েও খোঁজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার হয়তো আলোর মুখ দেখতে পারে ভ্যাস গাইডলাইন।
প্রসঙ্গত, মাত্র দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ থেকে দুই বছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকা মুনাফা করে ভারতীয় ভ্যাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হাঙ্গামা। এই টাকা কোম্পানিটির মূলধনের প্রায় ৩২০ গুণ। এ বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে’ কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে জানতে চেয়ে বিটিআরসিতে চিঠি দেয়। হাঙ্গামা’র বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ, দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২০১৫ সালে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ এবং ২০১৪ সালে ৬ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ১২৫ টাকা লভ্যাংশ বাবদ ভারতে পাঠায়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভ্যাস গাইডলাইন ও লাইসেন্সিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মূলত এ ঘটনার পর থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি-সহ সব পক্ষই ভ্যাস গাইডলাইন নিয়ে আবারও সরব হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সম্প্রতি কমিশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর করা হচ্ছে। শিগগিরই কমিশনের কোনও বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

প্রথমবারের মতো ‘ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস লাইসেন্সিং গাইডলাইনস-২০১২’ তৈরি করে বিটিআরসি। পরে যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বাতিল করে দেয়। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে জানায়, আপাতত ভ্যাসের কোনও প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে ৫টি কারণ দেখায় মন্ত্রণালয়। মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর জোর বিরোধিতার কারণেই ভ্যাস গাইডলাইন বাতিল হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছিল।
এরপরে ২০১৬ সালে ‘গাইডলাইনস ফর দ্য টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসেস’ তৈরি করা হয় এবং সব পক্ষের মতামত গ্রহণের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠায়। পরে সবার মতামত গ্রহণের জন্য বিটিআরসি গাইডলাইনটি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এবং মতামত গ্রহণ করে।
সব পক্ষের মতামত কম্পাইল করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির সিস্টেম ও সার্ভিসেস বিভাগের একজন পরিচালক তা সই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠান। যার অনুলিপি পাঠানো হয় বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব বরাবর।

সর্বশেষ কমিশন যে মতামত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠায় সেই নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের মতামত পাঠিয়েছে। এর মধ্যে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবও রয়েছে। মন্তব্যের ঘরে অ্যামটব ভ্যাস গাইডলাইনের বিষয়ে অনেক ধরনের মন্তব্য করে। মোবাইলফোন অপারেটর ছাড়া অন্যরা লাইসেন্স পেলে কী হবে সেসব নিয়েও বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে। তবে এটাও বলা হয় যে, ভ্যাস গাইডলাইন এলে আসন্ন ফোরজি/এলটিই লাইসেন্স ও নিলাম আকর্ষণ হারাবে।
উল্লেখ্য যে, দেশের সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যে ধরনের কনটেন্ট (ভ্যাস) তৈরি করে থাকে তা আগে আইটিইএস সেবা নামে প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে তা ভ্যাস নাম পায়। এই ভ্যাস নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। সংগঠনটির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে দেশের মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর বিরোধিতার কারণে ভ্যাস গাইডলাইন হয়নি। নীতিমালার অভাবে মোবাইলফোন অপারেটরগুলো দেশীয় ভ্যাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করছে ইচ্ছে মতো। দেশি প্রতিষ্ঠানকে কম দাম দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি দিয়েছে। ভ্যাস গাইডলাইন হলে সব নিয়মের মধ্যে আসবে। কোনও বৈষম্য থাকবে না।’
এদিকে ভ্যাস নির্মাতাদের সংগঠন কনটেন্ট প্রোভাইডার্স অ্যান্ড এগ্রিগ্রেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভ্যাস গাইডলাইন এলে ল্যাপটপ সর্বস্ব যেসব বিদেশি কোম্পানি (কনটেন্ট নির্মাতা) আছে তাদের এ যাতীয় কার্যক্রম বন্ধ হবে। কারণ আমরা জানতে পেরেছি, বিটিআরসি আবারও ভ্যাস গাইডলাইন প্রণয়ন এবং চূড়ান্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করছি শিগগিরই আমরা বিটিআরসি থেকে ডাক পাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ভ্যাসের মার্কেট সাইজ টেলিকম অপারেটরগুলোর রাজস্ব আয়ের প্রায় ৪ শতাংশ।
/এইচএএইচ/এসএনএইচ/আপ-এমও/

 

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x