ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব: মোস্তাফা জব্বার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:০৪ , ফেব্রুয়ারি ১৪ , ২০১৮

সচিবালয়ে বক্তব্য রাখছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব বলে অভিমত দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তবে পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যে পরীক্ষা গ্রহণ করি, প্রশ্ন তৈরি করি এবং প্রশ্ন তৈরি করা থেকে যে প্রক্রিয়ায় প্রশ্নটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়, এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন যাবত এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে এত মানুষ যুক্ত যে পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া যে কারও জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এটা সত্যি সত্যিই দূরুহ। চার-পাঁচ জন মানুষ থাকলে যে নিরাপত্তা দেওয়া সহজ, বেশি মানুষ থাকলে সেটা সহজ নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে  স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এরকম একটি ধারণা আমাদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল যে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, ইন্টারনেট প্রশ্ন ফাঁস করে। কিন্তু, বিষয়টি খুবই সিম্পল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ প্রশ্ন ফাঁস করে না। প্রশ্ন ফাঁস হয় মানুষের হাতে। ইন্টারনেটের ওপরে দায়টা আসে তার কারণ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচার করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রচারের দায়টা যদি ইন্টারনেটের ঘাড়ে দিতে চান তাহলে দেওয়া যেতে পারে।’

মোস্তাফা জব্বার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বস্তুতপক্ষে আমি যেটা বিশ্বাস করি- সেটি হচ্ছে, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়, প্রশ্ন তৈরি হয় এবং যে পদ্ধতিতে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটা নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। আমরা যদি না ভাবি তাহলে শত শত বছরের পুরনো পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে এসে অচল হতে পারে। আর যদি ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলেন- নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আপনাকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দেওয়ার মতো উপায় আছে। সেটা আমাদের হাতে আছে। প্রয়োগ করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, শিক্ষার্থী তো দু’চারজন না, লাখ লাখ শিক্ষার্থী, লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ শিক্ষক। এদের মধ্য থেকে আমরা প্রযুক্তিগতভাবে এরকম ব্যবস্থা করতে পারি যে, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রাকটিক্যালি কারও পক্ষে প্রশ্ন ফাঁস করার কোনও সুযোগই থাকবে না। তবে ইন্টারনেট বন্ধ করা অথবা ফেসবুক বন্ধ করা সমাধান না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা যে কাউকে ট্রেস করতে পারি, কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রযুক্তিতে যে রকম সরাসরি চিহ্নিত করার সুযোগ আছে, ফাঁকি দেওয়ারও সুযোগ আছে। রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস থাকলে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাকে যে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ব্যাপার আছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে ২০০৯ সালে। তখন থেকে  আমাদের এখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। সে জায়গায় যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠা উচিত ছিল, সেইভাবে এখনও গড়ে উঠেনি। তবে ভালো দিক যে, আমরা আইনগত অবকাঠামোগত দিক থেকে শুরু করে আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা তৈরি করা, ফরেনসিক ল্যাব তৈরি করা ইত্যাদি কাজ করেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হলে একটা এজেন্সি গঠন করতে পারবো। এসব কাজ খুব দ্রুতগতিতে করার চেষ্টা করছি। আমরা চ্যালেঞ্জটা বুঝতে পারছি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা সরকারের আছে।’

/এসএমএ/টিএন/

x