বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর সিমের হদিস জানে না অপারেটররা!

হিটলার এ. হালিম ২৩:১৫ , অক্টোবর ০৮ , ২০১৮





সিম

বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) নিবন্ধনের পরে মোবাইল সিম কার নিয়ন্ত্রণে থাকে বা চলে যায় তা জানে না অপারেটররা। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এখনও মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এখনও অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) কল টার্মিনেশন হচ্ছে বলে মনে করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বিটিআরসি।
তবে অবৈধ সিম শনাক্তকরণে বিটিআরসির সর্বাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার হওয়ায় সহজে এসব সিম চিহ্নিত করে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে মোবাইলকেন্দ্রিক অপরাধের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (৮ অক্টোবর) বিটিআরসি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘টেলিটকের পিওএস (পয়েন্ট অব সেল) ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসের স্বল্পতা রয়েছে। এটা একটা সমস্যা। এজন্য অনেকে একসঙ্গে অনেক সিম নিবন্ধন করিয়ে নেয়। দেখা যায়, কেউ ১০টা সিম নিবন্ধন করিয়ে নিলেন। এই ১০টা সিমের কয়টা তিনি ব্যবহার করে আর বাকিগুলো কোথায় চলে যায়, কারা ব্যবহার করেন, কার নিয়ন্ত্রণে যায়, তা মোবাইল অপারেটরগুলোর পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’
জানা যায়, এখনও বাজারে প্রি-অ্যাক্টিভ সিম পাওয়া যায়। বায়োমেট্রিক নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পরে তা পাওয়ার কথা নয়।
বিটিআরসির এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রি-অ্যাক্টিভ সিম বাজারে এখন পাওয়ার কথা নয়। এর সঙ্গে অপারেটরগুলো জড়িত।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সিম নিবন্ধনের পরে কোথায় যাচ্ছে, কার নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে— এটা মোবাইল অপারেটরগুলোর না জানা থাকা ভয়ের কারণ হয়ে দঁড়িয়েছে।’ অপারেটরগুলোর কাছে বিভিন্ন সময়ে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং জরিমানাও করা হয় বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, বিভিন্ন অপারেটরের এসব সিম থেকেই অবৈধ ভিওআইপি হচ্ছে। বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, কমিশন পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে যেসব অবৈধ সিম উদ্ধার করা হয় সেগুলো পর্যালোচনা করে তার প্যাটার্ন, নিবন্ধনের ধরন ইত্যাদি নিশ্চিত হওয়া যায়।
বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম (তরঙ্গ) বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত ১৬টি অভিযানে অবৈধ ভিওআইপির অসংখ্য মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ছিল ২ হাজার ৩৫৭টি, রবির ১ হাজার ৫৯০টি, বাংলালিংকের ১ হাজার ৯২২টি এবং এয়ারটেলের ১ হাজার ৫০০টি সিম। আর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের ছিল ১০ হাজার ৭৩৫টি। এসব অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে ১১৬ জনকে আটক করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
অন্যদিকে গত ৯ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিটিআরসি ও র‌্যাব যৌথভাবে ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে ১০ হাজারের বেশি সিমসহ ৩৭ লাখ টাকার অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ছিল টেলিটকের ৫ হাজার ৭৫, এয়ারটেল ও রবির ৩ হাজার ৮৯৭, গ্রামীণফোনের ১ হাজার ৪১৪, বাংলালিংকের ৪২৬, র্যাং কসটেলের ১২০ ও বাংলালায়নের ১৫টি সিম।
বিটআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে প্রতিদিন আনুমানিক আড়াই কোটি মিনিট কল অবৈধ পথে দেশ আসছে। তিনি মনে করেন, এই কলের সংখ্যা বিভিন্ন কারণে বাড়ে ও কমে। যেমন আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের (আইজিডাব্লিউ) রেট বাড়লে অবৈধ ভিওআইপি বেড়ে যায়।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ‘বাজারে অবৈধ সিম (অনিবন্ধিত, প্রি-অ্যাক্টিভ বা আগে থেকে চালু) সিম পাওয়া গেলে মোবাইল অপারেটরগুলোকে জরিমানা করার বিধান রয়েছে। এই নিয়ম আগেও ছিল, এখনও আছে। অবৈধ সিম পেলে মোবাইল অপারেটরগুলোকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’
জানা গেছে, প্রতিটি অবৈধ সিমের বিপরীতে ৫০ ডলার করে জরিমানার বিধান রয়েছে।

/এইচআই/

x