কম তরঙ্গের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না মোবাইলফোন গ্রাহকরা

হিটলার এ. হালিম ১০:২৩ , জানুয়ারি ০৯ , ২০১৯

 

মোবাইলফোন নেটওয়ার্কযথেষ্ঠ পরিমাণ তরঙ্গ বরাদ্দ না থাকায় দেশের মোবাইলফোন ব্যবহারকারীরা মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন না। মোবাইলফোন অপারেটরদের দেওয়া কম পরিমাণের তরঙ্গের বিপরীতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। অপারেটরদের দাবি টেলিযোগাযোগ খাতের স্পেক্ট্রাম তথা তরঙ্গের উচ্চমূল্য থাকায় তারা প্রয়োজনীয় তরঙ্গ কিনতে পারছেন না। এর ফলেই মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এখনও প্রচুর সংখ্যক নিম্নমানের মোবাইল রয়েছে যেগুলো থ্রিজি বা ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। নিম্নমানের সেট হওয়ায় সেগুলোতে ভালো সেবা পাওয়া যায় না। থ্রিজি ও ফোরজিতে ভয়েস কোয়ালিটি ভালো হলেও সেটের কারণে টুজি বিদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ভালোমানের সেবা না পাওয়ার এটাও একটা কারণ।

অপারেটরদের দাবি, দেশে তরঙ্গমূল্য অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। আবার এই তরঙ্গ ব্যবহার করেও অনেক বেশি মানুষ। তরঙ্গের দাম কমানো হলে আরও কম খরচে (ভয়েস কল) মোবাইলফোন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের তরঙ্গ (স্পেক্ট্রাম) রয়েছে ৩৭ মেগাহার্টজ আর গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার, রবির রয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ আর গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার এবং বাংলালিংকের রয়েছে ৩০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ, অপারেটরটির গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪ হাজার।

আরও জানা গেছে, ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের একজন গ্রাহকের জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ ছিল ০ দশমিক ৫১৮ হার্টজ, বাংলালিংকের ০ দশমিক ৯৪৮ হার্টজ আর রবির ছিল ০ দশমিক ৮১৪ হার্টজ।

মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সূত্রে জানা গেছে দেশে এক মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার করে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১৭ লাখ ৬০ হাজার মোবাইল ব্যবহারকারী। আর ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় একই পরিমাণ তরঙ্গ (এক মেগাহার্টজ) ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার, ভিয়েতনামে ৭ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ ৯০ হাজার, শ্রীলংকায় ৮১ হাজার থেকে ২ লাখ ৭১ হাজার, থাইল্যান্ডে ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ ৩১ হাজার, পাকিস্তানে ৫ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৪ লাখ ১০ হাজার, আফগানিস্তানে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯২ হাজার, নেপালে ৪৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার, জার্মানিতে ৩ লাখ ১৪ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯৯ হাজার এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৮২ হাজার থেকে ১ লাখ ২১ হাজার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘টেলিকম খাতে এখন আমার কনসার্ন হলো কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিয়ে। সেবার মান ভালো করতেই হবে অপারেটরদের। এর কোনও বিকল্প নেই। এরজন্য নীতিমালা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ যে টাকা দিয়ে মোবাইলসেবা কেনেন, সেই অনুপাতে তারা সেবা পাচ্ছেন না। এটা খুবই দুঃখজনক। জনগণকে টাকার মান অনুযায়ী সেবা দিতে হবে। জনগণ যে সেবা চায়, সেই সেবাই তাকে দিতে হবে।’

মোবাইলফোন অপারেটর রবির হেড অব করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, ‘এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও বেশি স্পেক্ট্রাম প্রয়োজন। কিন্তু দাম বেশি বলে অপারেটরগুলোর পক্ষে তা কেনা সম্ভব হয়ে উঠছে না।’

তিনি স্পেক্ট্রামকে সহজলভ্য করে দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের মোবাইলের ভয়েস কলের রেট দ্বিতীয় সর্বনিম্ন উল্লেখ করে শাহেদ আলম বলেন, ‘তরঙ্গের দাম কমানো হলে ভয়েস কলের রেট আরও কমানো সম্ভব।’

তিনি জানান, ভারতে ভয়েস কলের রেট সবচেয়ে কম। তিনি বলেন, ‘আমরা তরঙ্গ বিনামূল্যে চাই না। দাম কমানো হলে আমরা আরও কিনবো। তখন এখনের চেয়ে আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

 

/টিটি/

x