জার্মান ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রিয়ন্তি

সাদ্দিফ অভি ১৪:৪০ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৭

শিরোনাম পড়ে অবাক লাগছে তাই না? অবাক হলেও সত্যি এমনটাই ঘটেছে। নিউজিল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন আতিয়া ইরফান প্রিয়ন্তি। পড়ছেন এপসম গার্লস গ্রামার স্কুলে। পড়ার পাশপাশি করছেন সমাজ সেবা। বছরখানেক ধরে কাজ করছেন তরুণীদের নিয়ে। তার একটি গ্রুপ আছে, নাম শক্তি। গ্রুপের কাজ অন্যান্য সবাইকে একত্রিত করে কাজ করা। গ্রুপটির প্রধান কাজ পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করা। শরণার্থীদের মধ্যে যে সমস্যাগুলো রয়েছে তার মধ্যে পারিবারিক নির্যাতন অন্যতম। এছাড়াও তাদের গ্রুপটি কাজ করছে লিঙ্গ বৈষম্য এবং বর্ণবাদের মত কঠিন বিষয় নিয়ে।

আতিয়া ইরফান চেষ্টা করে যাচ্ছেন শরণার্থী তরুণীদের জন্য স্কুলে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার, যাতে তারা বৈষম্য নিয়ে আওয়াজ তুলতে পারে। সামাজিক কর্মকাণ্ডে এধরনের অবদানের জন্য নিউজিল্যান্ডের যুব মন্ত্রণালয় দশটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। এর মধ্যে বাংলাদেশি কন্যা প্রিয়ন্তি পান সামাজিক পর্যায়ে ‘চেঞ্জ মেকার অ্যাওয়ার্ড -২০১৭’।

শুধু তাই নয়, গত ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে নিউজিল্যান্ডে এসেছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক ভাল্টার স্টেইনমায়ার। তার সফর সঙ্গী ছিলেন ফার্স্ট লেডি এলকা বাডেনবেন্ডার। অকল্যান্ডের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে অংশ নেন একটি অনুষ্ঠানে। নিউজিল্যান্ডে সামাজিক পর্যায়ে কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছে এমন সাত জন তরুণ-তরুণীকে এই সুযোগ দেয়া হয়। তার মধ্যে আতিয়া একমাত্র বাংলাদেশি।

ফার্স্ট লেডির আগ্রহ ছিল ব্যাপক এই তরুণ-তরুণীদের কাজ নিয়ে, তাই তাদের মুখে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে এই আয়োজন ছিল বলে জানান প্রিয়ন্তি। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপাকালে তিনি তার ইচ্ছার কথা জানান। বলেন, নিউজিল্যান্ড থেকে আমার বেশি ইচ্ছা দেশের জন্য কাজ করা, আমি সবসময় সে সুযোগ খুঁজি।’

২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন প্রিয়ন্তি। বাবার চাকরির সুবাদে থেকেছেন বাংলাদেশের নানা জায়গায়। প্রকৃতির মাঝে থাকা বেশ পছন্দ তার। বিদেশের মাটিতে থেকে দেশের বৃষ্টি খুব মিস করেন। কারণ সেদেশের বৃষ্টিতে কোন প্রাণ নেই। ঘোরাঘুরি তার ভীষণ প্রিয়, তাই সুযোগ হলেই ছুটে যেতে চান ঘুরতে। লেখাপড়া শেষে দেশে চলে আসতে চান প্রিয়ন্তি।  

          

এফএএন/এনএ/

x