প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ লেখা হাতের স্পর্শ ছাড়াই খাবার তৈরি হয় যে রান্নাঘরে

হাসনাত নাঈম ১৫:৪৫ , মে ২০ , ২০১৮

ঢাকা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল নগরী। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে ৪৪ হাজার লোক বসবাস করে, যাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত কর্মজীবী। এর একটি বিরাট অংশের মধ্যাহ্নভোজ করতে হয় বাসার বাইরে। ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর আর বেশি দামের কারণে সেই খাবারই তাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে রাজধানীর অফিস, আদালত ও ব্যাংকপাড়ার কর্মজীবী মানুষ মধ্যাহ্নভোজ করতে গিয়ে বেশিরভাগই বিপাকে পড়েন। তাদের এই ভোগান্তির কথা চিন্তা করেছেন এই শহরেরই একজন। তিনি আফরোজা খান। কর্মজীবী মানুষদের কাছে কম দামে স্বাস্থ্যকর গরম খাবার পৌঁছে দিতে তিনি তৈরি করেছেন খান’স কিচেন নামে একটি আধুনিক রান্নাঘর।

আফরোজা খান
রাজধানীর নতুনবাজারের পূর্বপাশে বেরাইদ এলাকায় ১৫ বিঘা জমির ওপর বেসরকারি উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় রান্নাঘরটি প্রতিষ্ঠা করেছেন এই নারী উদ্যোক্তা। এখানে একসঙ্গে লাখ মানুষের খাবার রান্না করার ব্যবস্থা আছে। ইতোমধ্যেই নান্দনিক অবকাঠামো ও বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম স্থাপন করা শেষে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাজারো মধ্যবিত্ত কর্মজীবীকে।
মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়াই খান’স কিচেনে নিয়মিত রান্না হচ্ছে ভাত, ডাল, সবজি, মাছ ও মাংস। সঙ্গে আছে স্যুপ। বাদ যায়নি ডেজার্ট বা মিষ্টান্নও। সময়, সুযোগ ও চাহিদার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু খাবার। স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু, পুষ্টিকর, জীবাণুমুক্ত ও সতেজ রুচিসম্মত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও টাটকা গরম খাবার সরবরাহ করাই এটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য।
বর্তমানে নিজস্ব পরিবহনে রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকার অফিসে নিয়মিত ৭-৮ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এই খাবার। অফিসের পাশাপাশি ঢাকার বড় বড় অনুষ্ঠানের রান্নার কাজও করছেন। এই রান্নাঘরে বর্তমানে ৩০০ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন। আর রান্নার পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ টনি খান।
খান’স কিচেনের উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান জানান, ‘সবসময় নতুন কিছু করার ইচ্ছে ছিল। এরই অংশ হিসেবে খান’স কিচেনের ভাবনা এলো মনে। তিন বছর এ বিষয়ের ওপর দেশ-বিদেশে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েছি। এরপর আমার স্বামী আলী আহম্মদ খানের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি তৈরির উদ্যোগ নিই।’
জার্মান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এশিয়ার বৃহৎ খাবার প্রস্তুতকারী এই প্রতিষ্ঠান গড়তে। উৎপাদন পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্বে খাবার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সর্বাধুনিক পদ্ধতি ফোরজি (ফোর্থ জেনারেশন) হাইএফিসিয়েন্সি ক্লাসিফায়ার প্রযুক্তি। এছাড়া খান’স কিচেন নিশ্চিত করছে স্টিম ইনজেকশন সিস্টেম, অ্যাপেক্সি ফ্লোর ও ইলেকট্রিক পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব রান্না। এখানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু, পুষ্টিকর, জীবাণুমুক্ত ও সতেজ রুচিসম্মত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও টাটকা গরম খাবার।
ভোজন রসিকদের সুবিধার্থে খান’স কিচেন ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে বানানো বাক্স, যা বাইরের আর্র্দ্রতা থেকে খাবারকে সুরক্ষিত ও টাটকা রাখে। ফলে খাবার গরম থাকে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময়। সর্বোচ্চ মানের কাঁচামাল, উৎপাদনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, কম্পিউটারাইজড ল্যাবরেটরি, নিজস্ব প্যাকেজিং ইউনিটের আধুনিক ব্যবহার নিশ্চিত করে শতভাগ গুণগত মান বজায় রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

খান'স কিচেন
অফিসে খাবার সরবরাহ ও অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ ছাড়াও বর্তমানে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটেও খাবার সরবরাহ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে দেশের সবকটি এয়ারলাইন্সসহ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে খাবার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা। সেই সঙ্গে বর্তমানে রাজধানীর দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনও পরিচালনা করছে খান’স কিচেন।

/এনএ/

x