পর্তুগালের খেলায় বাংলাদেশের পতাকা!

সাদ্দিফ অভি ২০:৩১ , জুন ২১ , ২০১৮

পর্তুগাল এবং মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচে শুরুর চতুর্থ মিনিটের মাথায় অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর’র গোলের পর সে যখন উল্লাসে ফেটে দৌড়িয়ে যাচ্ছে তখন তার পেছনে গ্যালারিতে হঠাৎ করেই টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে বাংলাদেশের পতাকা। পতাকাটি নিয়ে দাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর ইয়ামীন যায়ীম। রোনালদোর পেছনে তার পতাকা এই ছবি বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নিজের দেশের পতাকা ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে’র গ্রাউন্ডে দেখে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ঈদের দিন ভোর বেলা এয়ার এরাবিয়ায় মস্কোর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান যায়ীম। তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শান্তি, সংঘর্ষ এবং মানবাধিকার বিষয়ে লেখাপড়া করছেন। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে তিনি সব সময়েই বের হন, কিন্তু এবার উদ্দেশ্যটা ভিন্ন। তার উদ্দেশ্য প্রিয় খেলোয়াড় রোনালদোর খেলা দেখা এবং সেই উদ্দেশ্যে সফল তিনি। এর আগে তিনি সেনেগাল ও পোল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দেখেছেন। এরপর দেখলেন পর্তুগাল ও মরক্কোর ম্যাচ। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার নেশায় বুদ যায়ীম সারাবিশ্বের মানুষকে বাংলাদেশ চেনানোর জন্য পতাকার উপর বাংলা এবং ইংরেজিতে নাম লিখেছেন। দেশের পতাকা নিয়ে ভিনদেশে প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা অন্যরকম বলে জানান তিনি।

যায়ীম বলেন, এই অনুভূতি মুখে বলে বোঝান সম্ভব না। ভিনদেশিরা পতাকা দেখে মুখে বাংলাদেশের নাম নেয়। অনেকে পতাকা চেনেনা, তাই বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই পতাকার উপরে দেশের নাম লেখা। এই অনুভূতি ভেতর থেকে আসে। আমার জানার ইচ্ছে কতজন বাংলাদেশি দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে ভিনদেশে গিয়ে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যারা চেনে না তারা অনেকেই আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করে – তুমি কি ইন্ডিয়ান? আমি এপার্টমেন্ট থেকে যখন বের হই তখন পতাকা নিয়েই বের হই। আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে তুমি কি ইন্ডিয়ান, তখন আমি বলি না আমি বাংলাদেশি।  আমি যেখানে যেখানে ঘুরেছি আমার ব্যাকপ্যাক কিংবা কোমরে পতাকা সঙ্গে নিয়ে ঘুরি, যাতে মানুষজন দেখে চেনে এটা বাংলাদেশ।

যায়ীম আরও জানান, খেলা দেখার জন্য টিকেট তিনি অনলাইন থেকে কেটেছিলেন। তার আগে থেকেই ফিফা অ্যাকাউন্ট ছিল। সেখান থেকে টিকেট জার্মানিতে বোনের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে টিকেট ঢাকায় পাঠান তার বোন। ঈদের দিন ভোর বেলা মস্কো চলে যান তিনি। এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার। এখন তিনি ব্রাজিলের খেলা দেখতে চান। সেজন্য ফিফার কাছে আবেদন করে রেখেছেন। যদি কেউ টিকেট রিটার্ন করে তাহলে দেখার সম্ভাবনা আছে। আর তা না হলে ফ্যানফেস্টে খেলা দেখবেন। বিভিন্ন শহরের পার্কে কিংবা ইউনিভার্সিটির ভেতর বড় জায়গায় ১০-১২ টি স্ক্রিন বসিয়ে এই ফ্যানফেস্টের আয়োজন করা হয় বলে জানান যায়ীম।

তিনি বলেন, ফ্যানফেস্টে খেলা দেখতে কোনও টাকা লাগেনা। এখানে ফিফার সুভেনিয়ার শপ আছে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড কাপে যারা স্পন্সর আছে তাদের সবার ফ্র্যাঞ্চাইজি শপ থাকে। খেলার মাঝখানে যখন ব্রেক থাকে তখন রাশিয়ান ডি জে রা পারফর্ম করে।

ভবিষ্যতে দেশেই প্রতিষ্ঠিত হতে চান তিনি। তার ইচ্ছা চাকরি করার। তিনি আগামী ২৭ জুন দেশে ফিরে আসবেন।

 

/এফএএন/

x