বৃত্ত’র ভেতর থেকে সীমানার বাইরে!

সাদ্দিফ অভি ২০:১১ , আগস্ট ১২ , ২০১৮

‘গোল এই পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে একদিন না একদিন সবার সঙ্গে দেখা হবে’-এই মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে চার ভ্রমণপাগল ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে প্রতিষ্ঠা করে ‘বৃত্ত’। ডা. জিয়ন, শাওন, আসলাম এবং জুবায়রা ছিল বৃত্তকে দাঁড় করানোর পেছনে মূল কাণ্ডারি। তাদের সঙ্গে পরে জয়, ইতি, সাইমুন, ইমরান, সাব্বির ও সৌরভ যুক্ত হয়ে বৃত্ত’র হাতকে আরও মজবুত করে। তাদের সবার প্রচেষ্টায় বৃত্ত’র আকার দিন দিন বাড়ছে বললেই চলে।    

 দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সৌন্দর্য, আবার কোনও কোনও সুপ্ত জায়গার অন্বেষণে বেড়িয়া পড়াও তাদের পাগলামির মধ্যে ছিল। দেশের আনাচে কানাচে লুকিয়া থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের পরিচয় করে দেওয়ার চেষ্টা তাদের মূল লক্ষ্য। কখনও মেঘ ছুঁতে বান্দরবান, কখনও ঝর্ণার স্বাদ নিতে রাঙ্গামাটি, কখনও মেঘের ভেলায় পাহাড় ছুঁতে সাজেক, কখনও নৌকায় করে টাঙ্গুয়ার হাওর, আবার শীত এলে তারা চলে যায় সুন্দরবন আবার কখনও বা ঝর্ণার পাশে তাবু গেড়ে শুয়ে থাকে সারারাত পাহাড়ে ভোর দেখবে বলে। এর সঙ্গে যদি পূর্ণিমা হয় তাহলে তো কথাই নেই, চাঁদ দেখতে হয় পাহাড় আর না হয় হাওর।

এভাবে ধীরে ধীরে দু’বছর পেরিয়ে বৃত্ত আজ বিশাল একটি পরিবার। নিয়মের মধ্যে থেকে ট্যুর আয়োজন করে আসছে এতদিন ধরে। তাদের সঙ্গে এখন যুক্ত আছেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। বৃত্তর গণ্ডি শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা, দেশের বাইরেও ট্যুর আয়োজনের ব্যবস্থা ছিল। ২ বছরে বৃত্ত দেশ ও বিদেশে প্রায় ৭০টির মতো ট্যুর পরিচালনা করেছে। তেঁতুলিয়া থেকে সেন্ট মার্টিন, সিলেট থেকে বান্দরবান চেষ্টা করেছে দেশ ছাড়াও বিদেশের মাটিতে যেমন- ভুটান, মেঘালয়, নেপাল, দার্জিলিংয়ে মতো জনপ্রিয় স্পটে ট্যুর পরিচালনা করতে।

বৃত্ত নামটি পছন্দ করার পিছনে তাদের বেশ কিছু লজিক আছে বলে জানিয়েছেন ডা. জিয়ান। তিনি বলেন, ‘কোথাও না কোথাও ঘুরতে গিয়ে নিজেদের পরিচিত অনেকের সাথেই আমাদের দেখা হয়ে গিয়েছে- এমনটা হরহামেশাই ঘটেছে আমাদের প্রায় সবার ভ্রমণ জীবনে। তার মানে আমরা ট্র্যাভেলিং ও ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি যা এমনিতেই একটি বলয় তৈরী করছে আমাদের জীবনে। দেখা গেলো হয়তো কোনও পাহাড়ি ট্রেইলে হাঁটছেন, হঠাৎ করে আপনার নাম ধরে কেউ একজন ডেকে উঠলো; কাছে এসে জড়িয়ে ধরলো বুকে। নৌকার সামনে গলুইয়ের উপরে বসে রাতারগুল বা স্বরুপকাঠি কিংবা কোন লঞ্চের ছাদে করে চাঁদপুর/সুন্দরবন ঘুরছেন - দেখলেন যে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য কোন নৌকা/লঞ্চের থেকে আপনার পরিচিত কোনও মুখ আপনার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে, হাত নাড়ছে। এগুলো সব কিছুই ভ্রমনের আনন্দ, ভ্রমন পিপাসী মানুষগুলোর সুন্দর মনের পরিচায়ক।

 তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আগের চেয়ে এখন অনেক ঘোরাঘুরি করছেন, দেশে-বিদেশে সর্বত্র। কিন্তু অনেকেই প্রপার প্ল্যানিংয়ের অভাবে আসল মজাটা নিতে পারছেন না। তাই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, প্রকৃতিকে একটু ভিন্নভাবে উপভোগ করার সুযোগ সবাইকে করে দেওয়ার জন্য।

বৃত্ত ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ছাড়াও একটি রেস্টুরেন্ট ‘ক্যাফে বৃত্ত’ আর রয়েছে মেঘের রাজ্য সাজেকে নিজস্ব রিসোর্ট ‘মেঘপুঞ্জি’।

জিয়ন আরও জানান, আমরা ঘুরবো সবাইকে সাথে নিয়ে কিন্তু অবশ্যই প্রকৃতিকে নষ্ট করে নয়। ‘লিভ নো ট্র্যাশ বিহাইন্ড’ - এই তত্ত্বে বিশ্বাস করি আমরা। এই প্রকৃতিকে বাঁচতে দিলে, পরিবেশটাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও দেখাতে পারবো। প্রপার ম্যানেজমেন্ট এর স্বার্থে, আমাদের প্রতিটি ট্যুরকে সফল করতে আমরা বদ্ধপরিকর। যার ফলাফল বর্তমানে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মেম্বার প্রায় ৩৫ হাজার এবং পেইজ ফলোয়ার প্রায় ৬০ হাজারের  কাছাকাছি।

বৃত্তর সঙ্গে সংশ্লীষ্টরা ছাড়াও অতনু, মাসুদ, বিপু, সাব্বির, ইমরান, রিদওয়ান, মাহমুদ, হারুন, রাসেল, সোহেল ভাই, মৌ, এমি, নাদিয়া, শাম্মি আপুদের মতন অগণিত গুণগ্রাহী যাদের কারণে আমরা আরও অনুপ্রেরণা পাই ভালো ট্যুর করার।

শুধু ট্যুরের মাঝেই বৃত্ত নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি,বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ ও ঔষধ বিতরণ, পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য করাসহ সামাজিক কাজে বৃত্ত নিজেদের সংযুক্ত করেছে শুরু থেকেই।

 

/এফএএন/

x