বুয়েট শিক্ষার্থী আদিব যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যে

তারুণ্য ডেস্ক ১৮:০০ , মার্চ ২৪ , ২০১৯

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অডিশন পর্বের পর গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি)রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ফেমল্যাব বাংলাদেশ ২০১৯- এর চূড়ান্ত পর্বের আয়োজন করলো ব্রিটিশ কাউন্সিল। যুক্তরাজ্যের শেলটেনহ্যামে ইন্টারন্যাশনাল শেলটেনহ্যাম সায়েন্স ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেতে চূড়ান্ত পর্বে ১৪ প্রতিযোগী নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। চূড়ান্ত পর্বের আগে এ ১৪ প্রতিযোগীকে প্রশিক্ষণ দেন যুক্তরাজ্যের মাস্টারক্লাস প্রশিক্ষক। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় বুয়েটের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী এ.এস. এম. আফরিন বিন নূর আদিব। 


২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ফেমল্যাবের আয়োজন করে আসছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। তরুণ এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) বিষয়ে উৎসাহীদের জন্য এ নিয়ে দ্বিতীয় বছরের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ বছর আরও মেধাবীদের কাছে পোঁছাতে ঢাকার বাইরেও সিলেট ও চট্টগ্রামে অডিশন পর্বের আয়োজন করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। দুই মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের প্রচারণার পর দেশজুড়ে এ প্রতিযোগিতার জন্য ছয় শতাধিক আবেদন পত্র জমা পড়ে। প্রচারণাকালীন সময়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অংশীদারিত্ব করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিবন্ধনের জন্য এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকটিভেশন বুথ স্থাপন করা হয়। সংক্ষিপ্ত বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে তিন দিন অডিশন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার অডিশন পর্বে নির্বাচিত হয় ১৫০ শিক্ষার্থী, চট্টগ্রামে ৬০ ও সিলেটে ৬০ এর বেশি শিক্ষার্থী।  
বাংলাদেশ পর্বের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়রা আখতার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক এম কে শরিফ সিয়াম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মুস্তাক ইবনে আইউব। ফাইনালিস্টদের দক্ষতার উন্নয়নে তাদের দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন পাবলিক কমিউনিকেশন স্কিলস কোচের মিডিয়া প্রডিউসার ও যুক্তরাজ্যের প্রশিক্ষক ম্যালকম লাভ।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. সোহরাব হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও দেখানো হয়। যেখানে ফেমল্যাবের যাত্রা তুলে ধরা হয়। ফেমল্যাবের শুরু, অডিশন পর্ব এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের মাস্টারক্লাস সেশন প্রদর্শিত হয়। এরপরে বাংলাদেশের বিভাগীয় বিজয়ীদের পারফরমেন্স অনুষ্ঠিত হয় যেখানে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে তিন মিনিট সময় দেয়া হয় এসটিইএম নিয়ে তাদের ধারণা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলার জন্য। 
জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি ফেমল্যাব বাংলাদেশ ২০১৯- এর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন। এ প্রতিযোগিতার বিজয়ী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য যুক্তরাজ্যর শেলটেনহ্যামে যাবেন। বাংলাদেশ পর্বের বিজয়ী আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের নাম উজ্জল করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধান অতিথি। তিনি বলেন, ‘ফেমল্যাব বিজ্ঞানকে একটি মজার বিষয়ে পরিণত করেছে। এটা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানের যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিযোগিতা। তরুণ ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে যেন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা সম্পৃক্ত হতে পারে, এ বিষয়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রদানই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।’
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানও ফাইনালিস্টদের পারফরমেন্সের প্রশংসা করেন এবং তরুণরা যেন বিজ্ঞানকে ভয় না পেয়ে এ বিষয়ে কাজ করে এজন্য তিনি তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করেন।
বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন জুনাইদ আহমেদ পলক।
প্রতিযোগিতার মূল ফাইনালে বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল পাঁচ মহাদেশের ফাইনালিস্টদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সহজাত দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিযোগীকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন। শেলটেনহ্যাম ফেস্টিভ্যালের আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। লক্ষাধিক মানুষ এ অনুষ্ঠান লাইভ-স্ট্রিম দেখবেন।
২০০৭ সালে থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ফেমল্যাবের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ প্রতিযোগিতা। এখন পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে।

/এনএ/

x