নতুন ঘর পেয়ে ত্রিশালে দরিদ্রদের মাঝে হাসি

আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ ১৯:১১ , জুলাই ২৯ , ২০১৯

১৫ বছর আগে স্বাম হারিয়ে ত্রিশালের নওদা গ্রামের বিধবা নুরজাহান বেগমের(৬৫) আশ্রয় নিতে হয়েছিল বাপের বাড়িতে, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর সেই আশ্রয়টুকুও হারাতে হয়। কারও বাড়ির বারান্দায় বা কারও উঠানে রাত কাটাতে হয়েছে নুরজাহান বেগমকে। জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২এর আওতায় বরাদ্দকৃত ১৫৭ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে নুরজাহান বেগমও একটি ঘর পেয়েছেন। নতুন ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত নুরজাহান বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটা ঘরের জন্য চেয়ারম্যান, মেম্বর কতজনের কাছেই না গেছি, কেউ ঘরের জন্য কিছু করে নাই। টিএনও সাবের কারণেই শেখের মেয়ে শেখ হাসিনার দেওয়া নতুন একটা টিনের ঘর  পাইছি।’

নুরজাহানের মতো প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১৫৭টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মান কাজের মধ্যে ৮০টি পরিবার ভিটা পাকা টিনসেড নতুন ঘর পেয়েছেন। বাকিগুলোর কাজ চলছে।  আর এককভাবে এই গুরুদায়িত্ব সূচারুভাবে পালন করছেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকির। তিনি নিজে সরজমিনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প থেকে দেওয়া ঘরগুলো প্রকৃত গৃহহীনদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

ত্রিশালের বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর উদ্যোগে দরিদ্র পরিবারের মাঝে দেওয়া নতুন টিনসেড ঘরগুলো। ঘর পেয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের অসহায় মানুষগুলোর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের এক কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে অসহায় দিনমজুর ও ভিক্ষুক পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে।

 প্রতিটি ঘর তৈরি হচ্ছে ২৪০ বর্গফুটের আয়তনের। উপজেলার অসহায় পরিবারের তালিকা দেখে তিন ধাপে যাচাই বাছাই করে প্রথম ধাপে ১৫৭টি পরিবারের মধ্যে ৮০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, এই ঘর পাওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সুপারিশসহ আবেদনপত্র উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা হয়। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকির সহকর্মীদের সাথে নিয়ে নিজে আবেদনকৃত ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত হতদরিদ্র ব্যক্তিদের চিহিৃত করে একটি তালিকা করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী ঘর তৈরি করে বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হচ্ছে। সুপারিশ নেওয়া বেশির ভাগ আবেদন বাতিল হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাপের মুখেও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।   

ঘর পাওয়া ত্রিশালের নওদা গ্রামের ভ্যান চালক আব্দুল আওয়াল জানান, টিনএনও স্যার নওদা গ্রামে পরিদর্শনে এসে আমাদের দুঃখ কষ্ট দেখে ঘরের বরাদ্দ দিয়েছেন। আগেতো বউ, বাচ্চাদের নিয়ে ভাঙ্গা ছনের ঘরে খুব কষ্টে থাকতাম। এখন নতুন ঘর পেয়ে খুব শান্তিতে আছেন জানান তিনি। 

ত্রিশালের কাঁঠাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন কামাল জানান, স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আমরা ১২ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ঘর বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করেছিলাম। ত্রিশালের এই তরুণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে প্রকৃত দাবিদারকেই ঘর দিয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেননি। প্রকৃত হতদরিদ্ররা ঘর পাওয়ায় খুশি ত্রিশালবাসী এমনটাই জানান ইউপি চেয়ারম্যান কামাল।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহি অফিসার আব্দুল্লাহ আল জাকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ, আশ্রয়ন প্রকল্প-২’ এর কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা ও আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে একটি তালিকা তৈরি করা হয়। এই তালিকা ধরে সহকারী কমিশনার ভূমি ও অন্যান্য অফিসরাদের সঙ্গে নিয়ে নিজে গ্রামে গ্রামে পরিদর্শন করে যাদের জমি ছাড়া কিছুই নেই এরকম প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবার খুঁজে বের করেছি। আমার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকেই এটা করেছি।

তবে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ত্রিশালের জনপ্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গৃহহীনদের ঘর নির্মানে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই সব বরাদ্দ দিয়েছেন আমাদের মতো জনপ্রতিনিধিদের এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

/এফএএন/

x